kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

মিরসরাইয়ে প্রস্তুত হচ্ছে ‘বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লী’

আগামী বছরের শেষ দিকে উদ্যোক্তাদের জমি বুঝিয়ে দেবে বেজা
এরই মধ্যে ৪৩৩ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে বিজিএমইএভুক্ত ৭৮ সদস্য

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরসরাইয়ে প্রস্তুত হচ্ছে ‘বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লী’

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের সুতিকাগার চট্টগ্রামের গার্মেন্ট উদ্যোক্তাদের প্রধান সমস্যা জমির সংকট। এই সংকটের কারণেই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কমপ্লায়েন্সগত সমস্যায় টিকতে না পেরে গত পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রামেই বন্ধ হয়েছে অন্তত ৩০০ গার্মেন্ট কারখানা। তবে সেই সংকটময় মুহূর্তে সুসংবাদ নিয়ে এসেছে ‘বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লী’।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৫০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত গার্মেন্টপল্লীটি। এখন চলছে মাটি ভরাটের কাজ। সব ঠিকমতো চললে আগামী বছরের শেষনাগাদ উদ্যোক্তাদের জমি বুঝিয়ে দেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা)।

বিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী গার্মেন্টপল্লীর জন্য পাওয়া ৫০০ একরের মধ্যে এরই মধ্যে ৪৩৩ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে বিজিএমইএভুক্ত ৭৮ সদস্য। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ একর জমি নিয়েছেন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ। এই গ্রুপটির তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে এই জমি বরাদ্দ নেওয়া হয়। এর পরেই আছে চট্টগ্রামভিত্তিক আজিম গ্রুপ। এই গ্রুপটি দুই প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে ৪০ একর জমি। বিজিএমইর আরেক সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের স্টার্লিং ডেনিমসের নামে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে ৩০ একরের প্লট। প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে গত ২৯ জুলাই সোমবার বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধিদলে থাকা বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লী প্রকল্পের ইনচার্জ সৈয়দ এস এম তানভীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে মিরসরাইয়ে বিজিএমই প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বেজা আমাদের জানিয়েছে এরই মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও সড়কসহ সব ধরনের পরিষেবা এবং সিইটিপি প্লান্ট সব কিছুই বেজা নিজেই করে দেবে। মূলত বেজা আমাদের কারখানা করার উপযোগী করেই জমি হস্তান্তর করবে। এরই মধ্যে জমি বরাদ্দের লে-আউট করা হয়েছে। সম্প্রতি পরামর্শকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে ২০২২ সালে মিরসরাইয়ের বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লী থেকে পণ্য উৎপাদন শুরু হবে।’

বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লীতে প্রায় দুই লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী, সব কারখানা চালু হলে এই গার্মেন্টপল্লী থেকেই বছরে অন্তত তিন বিলিয়ন ইউএস ডলারের পণ্য রপ্তানি হবে বলে বিজিএমইএ সূত্র জানায়।

চট্টগ্রামভিত্তিক উদ্যোক্তারা বরাদ্দ নিয়েছেন ১২৪ একর। চট্টগ্রামের মোট ২৯ সদস্য বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লীতে প্লট বরাদ্দের জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি আরডিএম অ্যাপারেলস। বন্দরনগরীর রাহাত্তার পুল এলাকার এই কারখানা কর্তৃপক্ষ বিজিএমইএ গার্মেন্টপল্লীতে ছয় একরের প্লট বরাদ্দ নিয়েছে। তিনি সেখানে টেক্সটাইল কারখানা করার পরিকল্পনার কথা জানান।

এ প্রসঙ্গে আরডিএম অ্যাপারেলসের এমডি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের জন্য কিছু জিনিস সহজ করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা চাইলে ব্যাংকে জমি বন্ধক রাখতে পারবে। এ ছাড়া তৈরি পোশাকসংশ্লিষ্ট যেকোনো কারখানা করা যাবে। ওয়াসার পানির সংস্থান আমাদের জন্য বড় সুসংবাদ। আমার সেখানে টেক্সটাইল কারখানা করার পরিকল্পনায় পানি অনেক বড় একটি ইস্যু ছিল।’

তবে মিরসরাই এলাকায় গার্মেন্টসের মতো শ্রমঘন কারখানায় শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন এই ব্যবসায়ী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলীর অপর পারেও গার্মেন্ট শ্রমিক পেতে কষ্ট হচ্ছে। সেখানে মিরসরাইয়ে এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কিভাবে পাব এটা নিয়ে শঙ্কা আছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএর সঙ্গে মিটিংয়ে আলাপ করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা