kalerkantho

বন্ড দুর্নীতি

প্রাপ্যতা নির্ধারণে নেওয়া হয় অনৈতিক সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধায় কী পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করবে তা নির্ধারণ করে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। প্রাপ্যতার অনুমোদন নিতে গেলে বন্ড কমিশনারেটের অনেক অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে থাকে। তারা অধিকাংশ সময়ে অনৈতিক সুবিধা না নিয়ে প্রাপ্যতা নির্ধারণ করে না। সম্ভাবনা থাকলেও এ হয়রানির কারণে জুতা খাতের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ম বন্ধে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলনকক্ষে রবিবার কালের কণ্ঠ আয়োজিত ‘পাদুকাশিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় জেনিস ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এ হয়রানির কারণে জুতা খাতের ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু অনুমোদন নিতে গেলেই নয়, অনুমোদন নিয়ে কাঁচামাল বন্দরে আসার পর খালাস করতে গেলেও অনেক সময় হয়রানি হতে হয়। বন্দরে বিভিন্ন অজুহাতে কাঁচামাল আটকে রেখে অনেক ক্ষেত্রে সময় ক্ষেপণ করে। এসব ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা দিলে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

ডায়মন্ড স্টিম হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘জুতা খাতে চীনের বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যবসা হচ্ছে না। বন্ড সুবিধা, বন্দরের সমস্যার কারণে জুতা খাতের ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। চীনের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বায়ররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।’

রিয়াদ খান উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অর্ডার দ্বিগুণ করে চলতিবারে ১০০ থেকে ২০০ জোড়া জুতার অর্ডার দিয়েছে। আগের বছর ১০০ জোড়া জুতা তৈরির কাঁচামাল বন্ড সুবিধায় আনার অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০০ জোড়া জুতা তৈরির কাঁচামাল বন্ড সুবিধায় আনার অনুমোদন নিতে গেলেই কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে আপত্তি জানানো হয়। কোনোভাবেই এ অনুমোদ দেওয়া হয় না। ১৫০ জোড়া জুতা তৈরির কাঁচামাল বন্ডে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় আমি বায়ারদের অর্ডার মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হই। এতে ভবিষ্যতে আমাকে আমার বায়ার অর্ডার বাড়াতে রাজি নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। এভাবে শুধু কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সিদ্ধান্তের কারণে আমার মতো অনেক প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার মো. মেহবুব হক বলেন, ‘বন্ড খাতে কিছু সমস্যা আছে। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি এসব সমস্যার সমাধান করতে। সকলের যৌথ উদ্যোগে বন্ড খাতের বিরাজমান সমস্যা নিরসন করতে হবে। সরকার বন্ড খাতে অটোমেশন বাস্তবায়নে জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নীতিমালা যুগোপযোগী করছে। আশা করি অচিরেই এর সুফল পাওয়া যাবে।’

মন্তব্য