kalerkantho

ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায় পোশাক রপ্তানিতে ১% প্রণোদনা

১৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্সে প্রশ্ন ছাড়াই নগদ সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্সে প্রশ্ন ছাড়াই নগদ সহায়তা

রেমিট্যান্স পাঠালেই ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে এক হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠালে প্রশ্ন ছাড়াই প্রণোদনা পাবে প্রবাসীরা। এর বেশি হলে কাগজ-পত্র দাখিল সাপেক্ষে প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার।

গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নগদ প্রণোদনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রীর নির্দেশে অর্থসচিব সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে ১ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর জন্য অতিরিক্ত ২৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা এরই মধ্যে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি প্রণোদনায় নতুন ১৩টি পণ্য যুক্ত হয়েছে। অর্থসচিব বলেন, রপ্তানি প্রণোদনা প্রতিবছরই কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়। সে আলোকেই বৈঠক হয়েছে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা সম্পর্কে তিনি বলেন, রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ নগদ সুবিধা দেওয়া হবে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়ে দিয়েছি। কিভাবে এ সুবিধা দেওয়া হবে তা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি সপ্তাহেই একটি সার্কুলার জারি করবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।

তৈরি পোশাকের নতুন প্রণোদনা সম্পর্কে সচিব বলেন, গার্মেন্টে সর্বোচ্চ ৪ এবং ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। যারা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায় রপ্তানি করে তারা এ সুবিধা পায় না। বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা অনুযায়ী, যারা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো সুবিধা পায় না তাদের ১ শতাংশ সুবিধা দেওয়া হবে। অর্থাৎ ইউরোপ, আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখন থেকে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দের অতিরিক্ত দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকার মতো লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর বেশি লাগলেও সমস্যা হবে না বলে জানান অর্থসচিব।

তিনি বলেন, যেসব যন্ত্রপাতি ওষুধ খাতসংশ্লিষ্ট কিন্তু ধরা হয়নি এমন পণ্যকে ওষুধ খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং অপারেশনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ওষুধ খাতের মতোই ১০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। গরু-মহিষের নাড়ি, ভুঁড়ি, শিং, হাড় দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এগুলো বিদেশ যাওয়ার আগে শতভাগ ভেরিফিকেশন করা হবে। সব ঠিক থাকলে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ওয়ালটন বিভিন্ন গৃহস্থলি পণ্য (হোম অ্যাপ্লায়েন্স) বিদেশে রপ্তানি করে। এটিকে উৎসাহী করতে শতভাগ যাচাই সাপেক্ষে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। কারণ, অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শতভাগ যাচাই ছাড়াই শুধু কাগজ দেখিয়ে অনেকে নগদ প্রণোদনার টাকা নিয়ে যায়। তাই এবার আর সে অবস্থা রাখা হচ্ছে না। যাচাইয়ের কাজটি করবে কাস্টমস।

অর্থসচিব বলেন, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি প্রণোদনা পায়। এবার তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে পার্টিক্যাল বোর্ড। এ ছাড়া সুপারি পাতার খোল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি পণ্য সহায়তা পাবে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন অ্যাগ্রোপ্রসেসিং পাবে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা। সফটওয়্যার রপ্তানি, হাইটেক পার্কে যাঁরা আছেন তাঁরাও ‘সি ক্যাটাগরিতে’ ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবে। ইপিজেড, সিনথেটিক পণ্য, প্যাটফ্ল্যাক্স রপ্তানিও এসেছে নগদ সহায়তার অধীনে। কাঁকড়া-কুচ আগেই রপ্তানি হতো। কিন্তু কুচের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম ছিল। এটি একটু শিথিল করে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মন্তব্য