kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

বেনাপোল স্থলবন্দর

একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল প্রকল্প

► ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা
► অনুমোদন পেলে চলতি বছরই কাজ শুরু

জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল প্রকল্প

বেনাপোল বন্দরে টার্মিনাল শেড না থাকায় খোলা আকশের নিচে রাখতে হচ্ছে আমদানীকৃত কোটি টাকার যানবাহন। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২৮৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এর প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিপিপিটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেনাপোল স্থলবন্দর। যার শুরু চারটি টিনশেড দিয়ে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ এ বন্দরটি হয়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। স্বীকৃতি লাভ করেছে আন্তর্জাতিকভাবে। ওপারে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর এপারে বেনাপোল বন্দর। স্থলপথে মালপত্র আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হওয়ায় অব্যাহত আছে এ বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এ বন্দর ব্যবহার করে স্থলপথে প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এখান থেকে প্রতিবছর প্রত্যক্ষভাবে সরকারের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে। ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা পণ্যবাহী গাড়ি সংরক্ষণ ও আমদানি-রপ্তানি কাজে গতিশীলতা আসবে। বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় বাড়বে। ভারতের সঙ্গে স্থলবাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বন্দর ব্যবহারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বন্দরটি। এ কারণে প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বেনাপোল দিয়ে বাণিজ্য আরো গতিশীল করতে ভারত-বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান চার দেশের বাণিজ্য চুক্তিও বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সমস্যায় ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সুফল পাচ্ছে না। সরকার যদি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করে তবে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হয় তখন তার দ্বিগুণ হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন হয়ে গেলে দ্রুত বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বন্দরের যানজট কমে আসবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি বাড়বে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা