kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ

তরল দুধে ভোক্তার আগ্রহ কম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরল দুধে ভোক্তার আগ্রহ কম

আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পরও পাস্তুরিত তরল দুধ কেনায় ভোক্তাদের আগ্রহ কমেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়ার খবরে মানুষের মধ্যে এমন আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। দোকানিরা জানায়, তরল দুধ নিয়ে নানা রকম নেতিবাচক প্রচারণা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার ফলে মানুষের মধ্যে এই আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাজারবাগ, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচা, টিকাটুলিসহ রাজধানীর কয়েকটির এলাকার ক্রেতা ও ভোক্তার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে গত এক মাসে কয়েকটি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

রাজধানীর রাজারবাগ এলাকার লিটন ভ্যারাইটি স্টোরের কর্মী রেজাউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, এক সপ্তাহ ধরে তরল দুধ নিয়ে এক ধরনের লুকোচুরির কারণে মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। ফলে গত কয়েক দিনে দুধ সরবরাহ বন্ধ থাকার পরও ক্রেতারা আগের দুধই কিনেছে। অথচ আজ পর্যাপ্ত দুধ সরবরাহ থাকার পরও ক্রেতাদের দুধ কেনায় আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করছেন, তরল দুধের এমন বিড়ম্বনায় গুঁড়া দুধে স্থানান্তরিত হয়েছে অনেক ভোক্তা। এদিকে সেগুনবাগিচার বাসিন্দা শিউলি আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তরল দুধ নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রচারণা এবং সরবরাহ ঘাটতির ফলে বিদেশি গুঁড়া দুধই এখন ভরসা। তাই তরল দুধ নিয়ে এখন তেমন একটা আগ্রহ নেই। তবে শুনেছি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বাজারে তরল দুধের কোনো ঘাটতি নেই।’

রাজধানীর ফকিরাপুলের মুদি দোকানের কর্মী রাজিউর রহমান জানান, তাঁর দোকানে গত এক সপ্তাহে গুঁড়া দুধের চাহিদা বেড়েছে বেশ। বিশেষ করে বিদেশি কয়েকটি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণ। এসব গুঁড়া দুধের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে গুঁড়া দুধের দাম বিশ্ববাজারেই এখন একটু বেশি। এ ছাড়া তরল দুধের ঘাটতির ফলে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এর দাম বেড়েছে বলে জানান রাজিউর।

প্রসঙ্গত, সার্বিকভাবে দেশে গুঁড়া দুধ আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় দুধ উৎপাদনও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক লাখ ৩৪ হাজার টন গুঁড়া দুধ আমদানি হয়েছে। পাঁচ বছরের হিসাবে গুঁড়া দুধ আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে পাঁচ বছরে তরল দুধ উৎপাদন বেড়েছে ৬৪ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা