kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সংবাদ সম্মেলনে বিআইএ সভাপতি

সাধারণ বীমায় ১৫% কমিশন বাস্তবায়ন না করলে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাধারণ বীমায় ১৫% কমিশন বাস্তবায়ন না করলে ব্যবস্থা

বিআইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিআইএর সভাপতি শেখ কবির হোসেন

সাধারণ বীমা কম্পানির প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে এজেন্টকে ১৫ শতাংশ কমিশন না দেওয়ার পুরনো এক সিদ্ধান্ত নতুন করে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০১২ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রজ্ঞাপন জারি করলেও এই সিদ্ধান্ত বীমা কম্পানিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে এবার যারা বাস্তবায়ন না করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্লাবে বিআইএ আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন বিআইএর সভাপতি শেখ কবির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যন আফতাবুল ইসলাম, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘এজেন্টকে ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে আইডিআরএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, সব বীমা কম্পানির চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন।’

২০১২ সালে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তখন বীমা কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলেও তৎকালীন চেয়ারম্যানের কারণে এটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী প্রিমিয়াম সংগ্রহের জন্য বীমা এজেন্টকে ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো সাধারণ বীমা কম্পানি চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ১৫ শতাংশের বেশি এজেন্ট কমিশন দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত কমিশন দেওয়া-নেওয়া অন্যায়।’

বীমা খাতের উন্নয়নের বিষয়ে বিআইএর সভাপতি বলেন, আগে বাজেটে বীমা নিয়ে কোনো কথা না থাকলেও এবারের বাজেটে শস্য বীমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব কিছু বীমার আওতায় আনার জন্য সরকারের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে।

এ সময় গাড়ির জন্য থার্ড পার্টি বীমা হয়, এটা কোনো বীমা নয় বলেও এর সমালোচনা করেন তিনি। এটি বন্ধ হওয়াও উচিত বলে জানান।

সাধারণ বীমার পাশাপাশি জীবন বীমা খাতকেও সংস্কারের আওতায় আনা হবে এবং এ বিষয় নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান শেখ কবির হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইডিআরএ ও বিআইএ যৌথভাবে সভা করেই ১৫ শতাংশ কমিশনের বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানানো হয়। যা গতকাল থেকেই আইডিআরএ কঠোরভাগে মনিটর করবে বলেও জানানো হয়। নন-লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানিতে কমিশনের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা যাবে না বলেও জানানো হয়। এ ছাড়া কম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সভা করে বিষয়গুলো জানানোর নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। এদিকে বীমা খাতের বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল কমিশন নৈরাজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ১৫ শতাংশ কমিশন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ বীমা কম্পানিগুলোর অবস্থা বদলে যাবে। কম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রাহক টানাটানির যে অবৈধ প্রতিযোগিতা তা বন্ধ হবে বলেও মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বীমা দাবি পূরণ না করতে পারার পেছনেও এই কমিশন বাণিজ্যকেই বড়ভাবে দায়ী করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা