kalerkantho

অর্থনৈতিক অঞ্চল

১৫০০ একর জমি চায় সংযুক্ত আরব আমিরাত

জমি দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক বলে জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কয়েক বছর ধরে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলোচনা চলছিল। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তার মধ্যে একটি ছিল অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আরেক ধাপ এগোল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এত দিন কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আগ্রহের কথা জানালেও এখন স্থান পরিবর্তন হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরীতে এক হাজার একর এবং ঢাকার আশপাশে ৫০০ একর জমি চেয়েছে দেশটি।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয়ে এক বৈঠকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য মোট এক হাজার ৫০০ একর জমি চেয়েছে দেশটি। জমি পেলে তারা এখানে হালাল খাদ্য উৎপাদন করে তা গলফ কো-অপারেশনের (জিসিসি) সাতটি দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানে রপ্তানি করবে। হালাল খাদ্যপণ্যের মান নির্ধারণে এখানে একটি হালাল সার্টিফিকেট সেন্টারও করতে চায় দেশটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্মুল কোয়াইন রাজ্যের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে গতকাল বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের নাম দেওয়া হয়েছে এমিরেটস অর্থনৈতিক অঞ্চল। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানও নির্ধারণ হলো। তারা আমাদের কাছে জমি চেয়েছে। আমরা এখন জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব। এরপর প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে।’ তাদেরকে জমি দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক বলেও জানান পবন চৌধুরী।

বেজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। চীন, ভারত ও জাপানের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশটিতে রয়েছে। যার নাম জেবেল আলি অর্থনৈতিক অঞ্চল। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে সাত হাজারেরও বেশি বৈশ্বিক কম্পানির কারখানা রয়েছে। জেবেল আলি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্মুল কোয়াইন রাজ্যের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ। মোহাম্মদ বিন রশিদ জানান, সারা বিশ্বেই হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার বাড়ছে। চাহিদাও বাড়ছে। এখানে হালাল খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি একটি হালাল সার্টিফিকেট সেন্টারও প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি অবকাঠামো খাতে উন্নতি করতে আরো নজর দেওয়ার তাগিদ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা