kalerkantho

বেসিক ব্যাংকের লোকসানি শাখা লাভে না এলে বন্ধের হুঁশিয়ারি অর্থমন্ত্রীর

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না

বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ অন্যরা

‘যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেরত না দিয়ে খেলাপি হয়েছেন তাঁদের খুঁজে বের করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে লোক লাগানো হবে, দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না এবং তাঁদের ঠিকানাসহ চিহ্নিত করা হবে। এখনো সময় আছে, ব্যাংকের টাকা ফেরত দিন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাকল্যাণ ভবনে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাসভায় ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এ সময় বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য দুটি অপশন আছে। হয় প্রফিট করে দেখান, না হয় ব্যাংক বন্ধ করে দিন।’ এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকের যেসব শাখা দুই বছর ধরে লোকসানে আছে, সেগুলো চলতি বছরের মধ্যে লাভে না এলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।

বেশি বেতন নেওয়া, কাজ না করা ও ঋণ বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুই হাজার ১০০ কর্মকর্তার কী কাজ আমি জানি না। একদিকে বেশি বেতন নিচ্ছেন। বেতন কার কত হবে এটা নিজেরা বসে নতুনভাবে ঠিক করে নিলে লোকসান অনেকটা কমে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বেসিক ব্যাংক এভাবে ধ্বংস হতে পারে না। এই ব্যাংকটি টিকে থাকবে না বন্ধ হয়ে যাবে এটা কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে। আপনাদেরকে নিজেদের বেতন নিজেদের আয় করে নিতে হবে। এ বছরই লোকসানি শাখাগুলো লাভে আনার চেষ্টা করবেন। তবে আমরা সব সময় সরকারি বা জনগণের ব্যাংক হিসেবে নার্সিং করে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক আবার ঘুরে দাঁড়াবে—আমার সেই বিশ্বাস আছে। এ জন্য রাফ অ্যান্ড টাফ হয়ে কাজটি করে যেতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় না। বন্ধ হয় ম্যানেজমেন্টের কারণে।’

বেসিক ব্যাংকের মোট লোকসান তিন হাজার ছয় কোটি টাকা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঋণ পুনঃতফসিলের যে নীতিমালা করেছি তাতে অনেক টাকা আদায় হবে। তাদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধের জন্য ১১ বছর সময় দেওয়া হবে। আমি কারো ঋণ মওকুফ করতে পারব না। তবে লজিস্টিক সাপোর্ট দেব। আপনারা পুরনো ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করুন। চিন্তা করতে হবে, মাসে এক কোটি টাকা বাঁচাতে পারলে অনেক সাশ্রয় হবে।’

বেসিক ব্যাংকে স্পেশাল অডিট করানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকলে শাস্তি কমবেশি পেতে হবে। ঋণ বিতরণে কোনো কর্মকর্তার অবহেলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে যেসব খেলাপি ভুল স্বীকার করে আবার ব্যবসা করতে চায়, আমরা তাদের ক্ষমা করব। যেসব কর্মকর্তা কাজ করতে চান না তাঁদের বিরুদ্ধে একবারেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বদ দোয়া দিলে পেটে ব্যথা হবে। আমি বদ দোয়া দিতে চাই না।’ কর্মকর্তাদের কাছে সব ঋণখেলাপির ঠিকানাও চান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কী পরিকল্পনা নেবেন সেটা আমাদের কাছে শিগগিরই উপস্থাপন করবেন। সে অনুযায়ী তহবিল কতটুকু ব্যবস্থা করা যায় সেটা করা হবে; আপনাদের পরিকল্পনার পরে আমরা আমাদের কাজ করব।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এমডিকে ব্যাংক পরিচালনার জন্য পুরোপুরি ক্ষমতা দেওয়া হোক, যাতে সব কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে চালাতে পারেন। সরকারি ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে মারা যাবে না—এমন প্রচারণা চালিয়ে তহবিল বাড়াতে হবে। নির্ভরযোগ্য লোকদের ঋণ দেবেন; যাতে টাকা আদায় হয়। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে যেসব খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করতে আসবে না, তাদের শক্তভাবে ধরতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক থেকে প্রচুর সম্পদ চলে গেছে। এটা জনগণের সম্পদ, এটা আমরা অনুমোদন করব না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ। ব্যাংকের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এমডি রফিকুল আলম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা