kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

উদ্যোক্তা

ফল চাষে দৃষ্টান্ত আফজালের

ফখরে আলম ও বাবুল আকতার, মণিরামপুর    

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফল চাষে দৃষ্টান্ত আফজালের

মণিরামপুর উপজেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আফজাল হোসেন

মিশ্র ফল চাষ করে মণিরামপুর উপজেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আফজাল হোসেন। আর্থিক লাভের পাশাপাশি তিনি ১০ গ্রামজুড়ে ফল চাষি হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। এ কারণে তাঁর ফল বাগানটি দেখার জন্য এখন অনেকেই আসছেন। তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে বাগান করছেন। আফজাল এখন মাসে দুই লাখ টাকার ফল বিক্রি করার টার্গেট করছেন। শ্যামকুড় ইউনিয়নের লাউড়ী রামনগর গ্রামের আফজাল হোসেনের নেশা আর পেশা হচ্ছে ফল চাষ।

এলাকার বেকারদের জন্য কিছু করতে সব সময়ই মন চায় আফজালের। এইচএসসি পাস করার পর ২০০৫ সালের দিকে রফিকুল ইসলাম নামের এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বেকার যুবকদের পাঠানোর কাজে ব্যর্থ হয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তিনি। সেই ক্ষতি পোষাতে নিজেই পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে গিয়ে তিনি ওই রফিক ভাইয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেন। বাংলাদেশ থেকে বীজ নিয়ে সবজি চাষ করে রীতিমতো সেই দেশের দক্ষ চাষিদের অবাক করে দিয়েছিলেন আফজাল। বিদেশে কৃষিকাজে সাফল্য পাওয়ার পর আফজালের ভাবনা হলো, একই পরিশ্রম করলে নিজ দেশেও সফলতা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নিজ এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান করা সম্ভব। এই ভেবে ২০১৩ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে স্থানীয় কৃষি কর্মকতার সঙ্গে পরামর্শ করে সরকারি অর্থে এক বিঘা জমিতে বারি আম-৮ জাতের ৬০টি চারা রোপণ করে শুরু করেন ফল চাষ।

সেই থেকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি আফজালকে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর বাগানের পরিধি। আফজালের নিজ গ্রাম রামনগরে ২৩ বিঘা জমিতে এখন ২১ প্রজাতির দুই হাজার ফলগাছ রয়েছে। তার মধ্যে দুই শ চায়না কমলা, ছয় শ থাই পেয়ারা, চার শ দেশি ও কাশ্মীরের আপেল কুল, কাঠিমন ও আম্রপালিসহ চার জাতের তিন শ আম, দেশি ও থাই জাতের এক শ আমড়া, ৮০টি ড্রাগন, ১০টি মালয়েশিয়ান শরবতী লেবু, ১০টি আঙুর, লটকন, ভিয়েতনামের হাইব্রিড নারিকেল, কদবেল, বিলেতি গাব ও সরিফা ফলের গাছ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাগানে পরীক্ষামূলক কাশ্মীরি আপেল ও নাসপাতির চারটি করে আটটি চারা লাগিয়েছেন। আগামী দুই বছরে তাঁর বাগানে গাছের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০ হাজারে। পাশাপাশি বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঁচ হাজার মাল্টার চারা উৎপাদন করেছেন। যার প্রতিটি বিক্রি হবে ১০০ টাকায়। এই পর্যন্ত তিনি বাগানের পেছনে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। আফজাল বাগানের ফল বিক্রি শুরু করেছেন। এরই মধ্যে তিনি দেড় লাখ টাকার পেয়ারা ও এক লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা