kalerkantho

বন্ড অপব্যবহারে ৩৪২ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১০.৭%

২০১৮-১৯ অর্থবছর
আদায় প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১০.৭%

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর জন্য ফাঁকিবাজ বন্ড প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আমদানি পর্যায়ে অধিকতর নজরদারি এবং বিক্রি পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বন্ডের অপব্যবহার করায় গত ছয় মাসে এনবিআর থেকে ৩৪২টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের উেস কর বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হলেও ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে প্রায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গড় হার ৭৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের তুলনায় ১০.৭ শতাংশ বেশি।

এবারের লক্ষ্যমাত্রা আদায় নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আদায় উল্লেখযোগ্যহারে বাড়বে। ভ্যাট আদায় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার জন্য সব সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরে অবস্থিত বড় ও মাঝারি সেবা প্রদানকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) স্থাপন ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যথাযথ মূসক আদায় নিশ্চিতকরণ ও রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে প্রযোজ্য সব প্রতিষ্ঠানে আবশ্যিকভাবে ইএফডি স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৭ থেকে ১০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে ইএফডি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি কর অঞ্চল যাতে করে তাদের নির্ধারিত নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা যথাযথভাবে অর্জন করতে পারে সে বিষয়ে কর অফিসগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পর যথাসময়ে যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না তাঁদের বিরুদ্ধে আয়কর আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এনবিআর কর্মকর্তাদের অসাধু কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে নরম-গরম বিভিন্ন ধরনের কথা বলা হচ্ছে।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি এ দেশে চার কোটি মানুষ কর দিতে সক্ষম। অর্থমন্ত্রী এক কোটি করদাতা তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে এনবিআর আয়কর বিভাগ চলতি অর্থবছরে দেশব্যাপী মোট ছয় লাখ ৭২ হাজার নতুন করদাতাকে কর নেটে আনতে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে।

মন্তব্য