kalerkantho

বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কমিয়ে মুদ্রানীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কমিয়ে মুদ্রানীতি

মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গত মুদ্রানীতির চেয়ে বেসরকারি ঋণপ্রবাহ প্রায় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে। দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। অর্থাৎ বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় ঋণ জোগান থেকে বঞ্চিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণের এক অঙ্ক সুদহার বাস্তবায়ন আরো কঠিন হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। নতুন মুদ্রানীতির ভঙ্গিমা আগের মতোই সতর্কভাবে সংকুলানমুখী রয়েছে বলে জানান গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ধরা হলেও তা সরকারি প্রক্ষেপিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যথেষ্ট। তা ছাড়া এখন থেকে প্রতি অর্থবছরে একটি মুদ্রানীতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাপক হারে কমানো হয়েছে। গত অর্থবছরের শেষার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ শতাংশ থাকলেও জুনে অর্জিত হয়েছে মাত্র ১১.৩০ শতাংশ; যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূলত ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় ঋণ বিতরণ বাড়াতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এই তারল্য সংকট এখনো কাটেনি বরং কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে আরো তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার লাগাম টেনে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩.২ শতাংশ এবং জুন পর্যন্ত ১৪.৮ শতাংশ করা হয়েছে।

তারল্য সংকটের কারণে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই বরং ৮৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য আছে। তারল্যের মিসম্যাচ রয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংকে বেশি রয়েছে আবার কোনো ব্যাংকে কম রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা বাজেটের ঘোষিত ৮.২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথেষ্ট। চলতি অর্থবছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১১.৩০ শতাংশ; কিন্তু প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিম্নতর জাগানের পরও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

গভর্নর আরো বলেন, অতি উৎসাহী কিছু ব্যাংকের প্রশ্নযোগ্য মানের ঋণ সৃষ্টির প্রবণতা থেকে ঋণবাজারে আসা আকস্মিক তেজি প্রবণতা সংযত হওয়ায় বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন দক্ষিণ ও পূর্ব এশীয় অঞ্চলের দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল উদীয়মান বাজার অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে তুলনীয় ধারায় এসেছে। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুণগত মানসম্পন্ন ঋণ বিতরণে গুরুত্ব দেওয়ায় ব্যাপক হারে ঋণ বৃদ্ধি কমেছে; কিন্তু প্রয়োজনীয় ঋণ বিতরণ হয়েছে।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমানো হলেও নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। গত মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০.৯ শতাংশ। কিন্তু নির্বাচনের আগ থেকে অর্থবছরের শেষ সময় পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার ব্যাপক হারে ঋণ নিয়েছে। ফলে জুনে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ২১.১০ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতি সরকারকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫.২০ শতাংশ এবং জুন পর্যন্ত ২৪.৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ বছরজুড়ে ব্যাংকিং খাত থেকে আগ্রাসীভাবে ঋণ নেবে সরকার।

এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি ঋণের অংশের চেয়ে বড় দেখালেও বেসরকারি অংশটির মোট অঙ্ক সরকারি অংশের চেয়ে অনেক (প্রায় ৭.৩ গুণ) বড় হওয়ায় পরিমাণের অঙ্কে সরকারি ঋণের অংশটি অনেক কম।

তবে চলতি অর্থবছর শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ১৫.৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মুদ্রানীতিতে মুদ্রা সরবরাহ সাড়ে ১২ শতাংশ হারে বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রিজার্ভ মুদ্রার বৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ শতাংশ। নিট বৈদেশিক সম্পদ (এনএফএ) বৃদ্ধি জুনে ২.২ শতাংশ হারে বাড়লেও আগামী জুনে তা বাড়বে মাত্র ০.৩০ শতাংশ।

বছরে ৫০০ ডলার রেমিটেন্স পাঠালেই ২% প্রণোদনা : বছরে ন্যূনতম ৫০০ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠালেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২ শতাংশ প্রণোদনা সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।

মন্তব্য