kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

টানা দরপতনে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টানা দরপতনে পুঁজিবাজার

১১ দিনে ডিএসইতে সূচক কমল ৪৫৫ পয়েন্ট। গতকালও বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুঁজিবাজারে দরপতন যেন থামছেই না। আইন-কানুন সংস্কার ও প্রণোদনায় গতিশীলতা ফেরার বিপরীতে পতন যেন বিনিয়োগকারীর সঙ্গী হয়েছে। শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচকের বড় পতনে চলছে পুঁজিবাজার। আর কেনার চেয়ে কম দাম হলেও শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। যাতে কমছে শেয়ারের দাম ও মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমেছে, যা ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বরের চিত্রে ফিরেছে বাজার।

পুঁজিবাজারের এই পতনকে অস্বাভাবিক মনে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে কারণ উদ্ঘাটন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এদিকে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা গতকাল রবিবার মতিঝিলের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ করেছে। এর আগেও বাজারে পতন ঘটলে বিক্ষোভের পর গত বৃহস্পতিবার ১৫ দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় স্মারকলিপি প্রদান করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

গতকাল সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটেছে। তবে দুই বাজারেই লেনদেন কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচকে পতন ঘটে। ডিএসইতে সূচক কমেছে ৬৭ পয়েন্ট বা ১.৩৩ শতাংশ আর সিএসইতে সূচক কমেছে ১১৫ পয়েন্ট বা ১.২৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কয়েকটি কারণে পুঁজিবাজারে পতন ঘটছে, যার মধ্যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অনাস্থা অন্যতম। আর্থিক বাজারে তারল্য সংকটের প্রভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় নয়, গ্রামীণফোনের ওপর এনবিআর ও বিটিআরসির ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি কর পাওনা, ২০১৯ সালে গ্রামীণফোনের অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ কমে যাওয়া এবং পিপলস লিজিং কম্পানির অবসায়ন নিয়ে আর্থিক খাতের অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১ কার্যদিবস। যার মধ্যে ৯ দিন মূল্যসূচকে পতন ঘটেছে আর দুই দিন সূচক বেড়েছে। ৯ দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক হ্রাস পেয়েছে ৪৫৫ পয়েন্ট আর দুই দিনে সূচক বেড়েছে ৪১ পয়েন্ট।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ৬৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৯৬ পয়েন্ট।

লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপে মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটে। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত একটানা পতনে শতাধিক পয়েন্ট হ্রাস পায়। তবে দুপুর ১২টার পর শেয়ার কিনতে চপ বাড়লে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে সূচকে বড় পতনের মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় চার হাজার ৯৬৬ পয়েন্ট, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ডিএসইর সূচক ছিল ৪ হাজার ৯৯৩ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭৬ পয়েন্ট আর ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২৭৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬ কম্পানির শেয়ারের দাম।

মতিঝিলে বিক্ষোভ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দেওয়ার পর আবারও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এতে বক্তারা বলেন, পুঁজিবাজারের একটি লুটেরা চক্র বাজারকে প্রভাবিত করে ফায়দা লুটছে কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। শেয়ার বিক্রির চাপ হঠাৎ বেড়ে গেল কেন, এর কারণ কেউ অনুসন্ধান করছে না। আর বাজার পড়ে যাওয়ার ফলে পুঁজি হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ বলেন, ‘বাজার প্রতিদিনই পড়ছে, পুঁজি হারাচ্ছি। কিন্তু দেশে কোনো আইন-কানুন নেই, লুটেরাদের ধরতে।’

মন্তব্য