kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

বিএফআইইউর পর্যালোচনা

সুইস ব্যাংকে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানত ৩ শতাংশ

জিয়াদুল ইসলাম   

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুইস ব্যাংকে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানত ৩ শতাংশ

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের রাখা আমানতের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। বাকি ৩ শতাংশ ব্যক্তিপর্যায়ের বিভিন্ন গ্রাহকের, যার মধ্যে অনিবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদন-২০১৮ পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কর্মকর্তারা এ তথ্য পেয়েছেন। তবে এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কত টাকা সুইস ব্যাংকে জমা আছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই তাঁদের কাছে। আবার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সুইজারল্যান্ডে কোনো টাকা পাঠানো হয়েছে কি না সে বিষয়েও অন্ধকারে বিএফআইইউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএফআইইউয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকা বাড়ছে সুইস ব্যাংকে। তবে ব্যক্তি খাতের আমানত কমছে। গ্রাহকের তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে আগের চেয়ে গোপনীয়তা কমায় ব্যক্তি আমানত কমতে পারে বলে জানান তিনি।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন দেশের আমানতের পরিমাণ নিয়ে সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল চার হাজার ৬৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে জমা বেড়েছে এক হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।

সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গোপন রেখে অর্থ জমা রেখে থাকলে, ওই টাকা এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয়। গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমানও হিসাব করা হয়নি এ প্রতিবেদনে।

বিএফআইইউর পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের মধ্যে পাঁচ হাজার ১৮২ কোটি টাকাই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। বাকি ১৬০ কোটি টাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের; যার মধ্যে অনিবাসী বাংলাদেশিরাও আছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, অনেক বাংলাদেশি আছেন যাঁদের বিদেশে বৈধ ব্যবসা রয়েছে, তাঁদের আয়ের একটি অংশও সুইস ব্যাংকে জমা থাকতে পারে।

এ বিষয়ে বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত নিয়ে যে প্রতিবেদন তার সবটায় কিন্তু পাচারের টাকা নয়। বরং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের অফিশিয়াল ও ব্যাংকিং চ্যানেল যত লেনদেন আছে, তার সবই গণনায় নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশিদের আমানত ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো কেইস চলমান থাকলে বা কারো বিরুদ্ধে সন্দেহ হলে তা তদন্তের স্বার্থে আমরা তথ্য চেয়ে আবেদন করি। এগমন্ট গ্রুপের সদস্য হিসেবে সেটা সরবরাহ করার নিয়মও রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তির পুরো পরিচয় ধরে তথ্য চাইতে না পারলে সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগেও কয়েকটা কেইসের ক্ষেত্রে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা তথ্য নেই এই বলে তারা তা সরবরাহ করেনি। তিনি বলেন, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সুইজারল্যান্ড আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট তাঁর কাছে রক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতেই কেবল তথ্য সরবরাহ করে থাকে, অন্য কারো কাছ থেকে তথ্য চেয়ে এনে দিতে পারে না। সে জন্য সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক চাপে আছে। এগুলোর বিষয়ে আইন সংশোধনের জন্য কিছু সময়ও তাদের দেওয়া আছে।

ভারতের সঙ্গে এমওইউ আছে সুইজারল্যান্ডের। আমাদের পক্ষ থেকে এমওইউর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগমন্ট গ্রুপের সদস্য হিসেবে এমওইউ করা না করা একই কথা। কারণ সুইজারল্যান্ডও এগমন্ট গ্রুপের সদস্য। এ কারণে এগমন্ট গ্রুপের সদস্য দেশগুলোকে এমওইউ ছাড়াই তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য।

সুইস ব্যাংকের অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে এপিজি কোনো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এপিজি দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয়ে এভাবে সহযোগিতা করতে পারে না। তা ছাড়া সুইজারল্যান্ডের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট এপিজির অধীনে নয়, তারা সরাসরি এফএটিএফের অধীনে। তবে এপিজি যেটা করছে, সেটা হলো সুইজারল্যান্ডের যে আইন-কানুন আছে, সেটা সংশোধনে চাপ সৃষ্টি করছে। এপিজির সাম্প্রতিক সফরের উল্লেখযোগ্য বিষয় কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এপিজির রেটিং হিসেবে আমরা কমপ্লায়েন্ট দেশ। তার পরও কিছু কিছু বিষয়ে এপিজির অবজারভেশন ছিল; যেগুলোতে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে এবং এ জন্য তাদের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে গত বছর বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ বাড়লেও ভারতের কমেছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—ভারতের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের অর্থপাচারসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে একটি এমওইউ রয়েছে।

মন্তব্য