kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

কর্মকর্তাদের এনবিআর চেয়ারম্যানের চিঠি

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে জবাব দিতে হবে

► ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আইনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে হবে
► ভ্যাট আদায়সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে
► ইবিআইএন না থাকলে আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না, টেন্ডারে অংশ নেওয়া যাবে না, ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে না

ফারজানা লাবনী   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে জবাব দিতে হবে

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাজস্ব আদায়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সব রাজস্ব দপ্তরকে প্রতি মাসের জন্য রাজস্ব আদায়ে ও করদাতা সংগ্রহে পৃথক লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হবে। এক মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কম থাকলে তা পরের মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে আদায় করে দিতে হবে। কোনো রাজস্ব দপ্তর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে এর জন্য যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী করদাতাকে ভোগান্তিতে ফেললে তাঁকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় সামনে রেখে গত মঙ্গলবার এসব নির্দেশ দিয়ে বিভিন্ন রাজস্ব দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

চিঠিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছর থেকে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে গেছে এনবিআর। ব্যবসায়ীদের এ আইনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এনবিআর কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিটি কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট বা মূসক কমিশনারেট থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে ভ্যাট আইন ২০১২-এর নতুন বিধানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে কর্মশালা ও সংলাপের আয়োজন করতে হবে। ভ্যাট আদায়সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। ভ্যাট পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার কাজ চলছে। চলতি মাসের ভ্যাটের হিসাব আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে। ইবিআইএন (ব্যবসা চিহ্নিতকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান চলতি মাসের মধ্যে ইবিআইএন গ্রহণ করেনি সেসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইবিআইএন নিতে তাগাদা দিতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান ইবিআইএন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরতে বলেছেন। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ইবিআইএন না থাকলে কোনো ব্যবসায়ী আমদানি-রপ্তানি করতে পারবেন না। কোনো টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেন না। ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন না। এসব তথ্য ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) যন্ত্র সরবরাহে গুরুত্ব দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান চিঠিতে বলেছেন, ইএফডি সরবরাহে এনবিআর চেষ্টা করছে। ব্যবসায়ীদের জানাতে হবে এসব যন্ত্র ব্যবহার অত্যন্ত সহজ। একটি মোবাইল চালানোর মতোই এসব যন্ত্রের সাহায্যে ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব রাখা যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আগামী অর্থবছরে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল, ইটিআইএন গ্রহণ এবং ই পেমেন্টে জোর দিয়ে চিঠিতে বলেন, সাধারণ ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। এনবিআর মূল কার্যালয় থেকে চলতি অর্থবছরের প্রতি মাসের জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজস্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এ ছাড়া এক মাসের লক্ষ্যমাত্রার যতটা কম আদায় হবে পরের মাসে তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে আদায় করে দিতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে। আমি আশাবাদী এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। এ জন্য বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মনোযোগ দিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

করদাতার সংখ্যা বাড়াতে নির্দেশ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, করদাতা সংগ্রহের কার্যক্রম কঠোর নজরদারি করতে হবে। প্রতিটি কর অঞ্চল থেকে প্রতি তিন মাসে কী পরিমাণ করদাতা সংগ্রহ করা হবে তার হিসাব এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠাতে হবে। কোনো কর অঞ্চল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তার জন্য যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

মন্তব্য