kalerkantho

ড. মশিউর রহমান বললেন

বন্ড অনিয়ম রোধে কঠোর সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্ড অনিয়ম রোধে কঠোর সরকার

কাস্টমস্ আধুনিকায়ন কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০২২-এর প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান

বন্ড সুবিধায় বিনা শুল্কে পণ্য এনে কারখানায় ব্যবহার না করে অনেকে খোলাবাজারে বিক্রি করে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করছে। আর্থিক অনিয়ম করছে। এ অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থানে আছে সরকার।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কাস্টমস্ আধুনিকায়ন কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০২২’-এর প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ফান্ড, ডিএফআইডির অর্থায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং আইএফসি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

মশিউর রহমান ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা রজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কস্টমসের আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা টিএফএ চুক্তির সঙ্গে সংগতি রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করতে অনলাইন সুবিধা চালু করা হবে। এতে ব্যবসায়ের খরচ কমবে। স্ক্যানিংয়ের ফলে সৎ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা গতিশীল হবে।’    

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআর অটোমেশনে প্রকল্প গ্রহণ করে। নির্ধারিত সময় পরে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না। এনবিআর যেখানে ছিল সেখানে থেকে যায়। এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার জন্য এমন হয়। তারা নিজেদের বদলি আর পদন্নোতিতে ব্যস্ত। আমি লক্ষ রাখব কে কে কাস্টমসের অটোমেশনে কাজ করবে আর কে কে পদন্নোতি আর বদলি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।’ চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘এসব বছরের পর বছর চলতে পারে না। যাকে যে দায়িত্ব দেব তাকে সে কাজ সঠিকভাবে করতে হবে। অটোমেশনের কাজ কিভাবে করতে হবে তা শিখতে হবে। যারা প্রকল্পে অংশগ্রহণ করবে না, প্রশিক্ষণ নেবে না সেসব কর্মকর্তা পিছিয়ে পড়বেন।’

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সূত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘একসময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত ছিল শুল্ক। এখন শুল্ক আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে। শুল্কের বিন্যাসে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হবে। আর এর সুফলে আয়কর ও ভ্যাট আদায় বাড়বে। আমরা আয়কর ও ভ্যাট আদায়ে সমান গুরুত্ব দিয়েছি। ভবিষ্যতে আয়কর আদায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসা সম্প্রসারণে এনবিআর এবং ব্যবসায়ী উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে। এক পক্ষ দুর্নীতি করল, অন্য পক্ষ সত্ভাবে কাজ করলেও দুর্নীতি কমবে না।’

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান কাস্টমসের কর্মপরিকল্পনা বর্ণনা করে বলেন, ‘ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করার পরিমাণ কমানো হবে। প্রত্যেক বন্দরে স্ক্যানিং যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। ই-পেমেন্টে জোর দেওয়া হবে। জাহাজ বা উড়োজাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করা হবে। ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ পারলেও আমরা কেন পারব না। একটি পণ্য বন্দর থেকে স্ক্যানিং ছাড়া বের হবে না বা প্রবেশ করবে না।’

মন্তব্য