kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

উদ্যোক্তা

ক্ষুদ্রঋণে বদলে গেল নূরজাহানের জীবন

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর)   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুদ্রঋণে বদলে গেল নূরজাহানের জীবন

নিজের চা দোকানে নূরজাহান বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোডের্র (বিআরডিবি) কাছ থেকে পাওয়া ১৫ হাজার টাকার ঋণে বদলে গেল নূরজাহান বেগমের জীবনের গল্পটা। অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ তাঁর পুঁজি হয়েছে ১৫ লাখ টাকায়। পূরণ হতে চলেছে নিজের জমিতে স্বপ্নের নিবাস। বানাচ্ছেন পাকা দালান। তিনি যশোরের ঝিকরগাছার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কের রেলগেট এলাকার একজন চা দোকানি। উপজেলার কৃর্ত্তিপুর গ্রামের ভূমিহীন মৃত সোহরাব হোসেনের মেয়ে।

২৩ বছর আগে নূরজাহান বেগমের বিয়ে হয় পাবনার আতাউর রহমানের সঙ্গে। ইটের ভাটায় কাজ করতে এসে সে তাঁকে বিয়ে করে। নূরজাহানের এক ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম হয়। পরে জানা যায়, আতাউরের আরো দুটি স্ত্রী আছে। আট বছর পর স্বামী তাঁকে ফেলে চলে যায়। বেঁচে থাকতে নূরজাহান কখনো বাবার চায়ের দোকানে, কখনো ক্ষেতখামারে ও বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। সম্বল বলতে তাঁর ছিল একটি ছাগল। সেটি পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কের রেলগেট এলাকায় একটি কাঠের দোকান কিনে তাতে চা বিক্রি শুরু করেন।

থাকতেন রেললাইনের পাশে সরকারি জায়গায়। কিন্তু পুঁজি না থাকায় ব্যবসা ভালো হতো না। ব্যবসা বাড়াতে নূরজাহান যোগ দেন বিআরডিবি মহিলা সমিতিতে। সেখান থেকে তাঁকে প্রথমে ঋণ দেওয়া হয় ১৫ হাজার টাকা। সে টাকায় নূরজাহান চা বিক্রির পাশাপাশি বেশ কিছু মালপত্র তোলেন। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

গত বছর বিআরডিবি উপজেলা কার্যালয় তাঁকে এক লাখ টাকা উদ্যোক্তা ঋণ দিয়েছে। এর আগে তাঁকে পাঁচবার ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছিল বোর্ডটি। দুই বছর আগে নূরজাহান একই এলাকার কৃর্ত্তিপুর মৌজায় সাড়ে ৬ শতক জমি কিনে তিন কামরার ছাদের দালান দিয়েছেন। জমি কেনাসহ তাতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে ১২-১৩ লাখ টাকা। তাঁর বড় ছেলে নূরনবী বিএ অনার্স পড়ে, বড় মেয়ে আরিফা খাতুন সরকারি এমএল মডেল হাই স্কুলের দশম শ্রেণিতে কারিগরি বিভাগে আর ছোট মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন ভোর ৫টায় দোকান খুলে তা বন্ধ করেন রাত ১১টায়।

নূরজাহান জানান, প্রতিদিন দোকানে তিন-চার হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। মেয়ে দুটি স্কুল থেকে এসে তাঁর কাছে থাকে। ছেলেটি লেখাপড়া বাদেও ইজিবাইক চালায়।

বিআরডিবি কর্মকর্তা বি এম কামরুজ্জামান জানান, শুধু নূরজাহান বেগম নন, ভাগ্যবঞ্চিত এসব নারীকে স্বাবলম্বী করতে বিআরডিবি কাজ করে যাচ্ছে। নূরজাহান বেগম সংগ্রামী, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী বলেও তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য