kalerkantho

প্রাণ ফিরে পেল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

► রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট বাতিল, নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে
► দ্বিতীয় দিনের মতো বাড়ল সূচক, বেড়েছে লেনদেনও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও অনিয়মে গতি পায়নি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড। বছর শেষে মুনাফা নিয়ে মূলত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানির কারসাজিতে আগ্রহ হারায় বিনিয়োগকারী। তবে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রি-ইনভেস্টমেন্ট পদ্ধতি বাতিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে বিনিয়োগকারীর পুনঃবিনিয়োগ ইউনিটের বিপরীতে নগদ লভ্যাংশ পাবেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারে পালে হাওয়া লেগেছে। নগদ লভ্যাংশের আশায় এই খাতের কম্পানির শেয়ার কেনার চাপ ছিল গতকাল বুধবার। শেয়ার কিনতে চাপ থাকায় ৩১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। যার মধ্যে পাঁচটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হয়েছে। আর পাঁচটির বেশি কম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের আশপাশে লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বেশি। তবে মুনাফা করলেও রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট লভ্যাংশে আগ্রহ হারিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। কারণ বেশির ভাগ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্য ১০ টাকার চেয়ে কমেছে। কোনোটির শেয়ারের দাম অর্ধেকেও নেমেছে।

গতকাল বুধবারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১টির বা প্রায় ৮৪ শতাংশের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। একটি কম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও পাঁচটির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পুঁজিবাজার। শেয়ার কেনার চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন। এতে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৮ পয়েন্ট। আগের দিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেপথ্য ভূমিকায় সূচক বেড়েছিল তবে লেনদেনে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ২৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, আর সূচক বেড়েছিল প্রায় ৩৩ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপে সূচক বাড়লেও পরে কমে যায়। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ১৩৩ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ০.৫৪ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৩০ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১.৫৯ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৫২ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৬টির, কমেছে ১১৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮ কম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, আর সূচক বেড়েছিল ৪৯ পয়েন্ট।

ষষ্ঠ দিনে মতিঝিলে বিক্ষোভ : নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেপথ্য ভূমিকায় পুঁজিবাজারে উত্থান হলেও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। স্থিতিশীল পুঁজিবাজার ও ছয় দফা দাবিতে ডিএসইর সামনে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

মন্তব্য