kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

বিআইবিএমের গোলটেবিল বৈঠক

ব্যাংকঋণে জমিজমা বন্ধক নেওয়ার প্রবণতা বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংকঋণে জমিজমা বন্ধক নেওয়ার প্রবণতা বেশি

বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানসহ অন্যরা

জমিজমা বন্ধক নিয়ে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে জমিজমা বন্ধক নেওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.১৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে যা ছিল ৬১.৩৪ শতাংশ, আর ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৫৪.৫৭ শতাংশ। তবে ব্যাংকঋণে করপোরেট ও ব্যক্তিগত গ্যারান্টি নেওয়ার হার কমেছে। ২০১৭ সালে গ্যারান্টি নেওয়ার হার ছিল ১৩.৯০ শতাংশ। গত বছর তা কমে সাড়ে ১২ শতাংশে নেমেছে। আর ২০১৩ সালে এ হার ছিল ১৪.৯২ শতাংশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের বিপরীতে নেওয়া জমিজমা একটা সংবেদনশীল জামানত। কারণ যে মূল্যে জামানত হিসেবে এটা বন্ধক নেওয়া হয়, নিলামে তুললে সে মূল্য পাওয়া যায় না। এতে ঋণটির আংশিক ফেরত না পাওয়ার খাতায় চলে যায়।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘করপোরেট গ্যারান্টি : ডাজ ইট ওয়ার্ক ইন রিকভারি অব লোন’ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপির বিষয়টি ক্রমেই উদ্বিগ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য সহায়ক জামানতের পাশাপাশি করপোরেট গ্যারান্টি খেলাপি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর প্রয়োগ দুর্বলতার কারণে তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঋণের বিপরীতে নেওয়া জামানত বিক্রি করতে বাধার মুখে পড়ে ব্যাংক। স্টে-অর্ডারের মাধ্যমে খেলাপি কর্তৃক তা আটকে দেওয়া হয়। তাই ব্যাংকঋণে করপোরেট গ্যারান্টিতে আরো সতর্কতার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. নাজিমুদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ এবং প্রশাসন ও হিসাব) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহাকারী অধ্যাপক ড. মো. মোশাররেফ হোসেন। গবেষণা দলে আরো ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মহব্বত হোসেন; বিআইবিএমের প্রভাষক মাকসুদা খাতুন এবং রিফাত জামান সৌরভ এবং ঢাকা ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ঋণখেলাপি ব্যাংকিং খাতের পরিচালনা এবং মুনাফার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকরা ভাবছে, পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, করপোরেট গ্যারান্টির ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের সতর্কতা বেশি জরুরি। করপোরেট ঋণের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে ঋণ প্রদানে দুর্বলতাগুলো ব্যাংকারদের নজরে পড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে অন্য কোনো ব্যাংক যেন ঋণ না দেয় সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে দেখভাল করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. নাজিমুদ্দিন বলেন, ডিউ ডিলিজেন্স মেনে ঋণ দিতে হবে। কারণ যারা ঋণ নেয়, তারা তা ফেরত না দিতে টালবাহানার আশ্রয় নেবে। তাই প্রয়োজনীয় জামানত যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা