kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

পাঁচ বছর পূর্তির মতবিনিময়সভায় প্রাণের কর্মকর্তারা

শূন্য বর্জ্য নিষ্কাশন সুবিধা চালু করবে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শূন্য বর্জ্য নিষ্কাশন সুবিধা চালু করবে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বক্তব্য দেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের প্রথম শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে জিরো ডিসচার্জ ফ্যাসিলিটিজ বা শূন্যে বর্জ্য নিষ্কাশন সুবিধা ২০২০ সালের মধ্যে চালু করা হচ্ছে। ফলে এই কারখানার কোনো বর্জ্য বাইরে যাবে না এবং তরল বর্জ্য ফের রিসাইকল হয়ে শিল্পে ব্যবহার করা হবে। হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পাঁচ বছর উপলক্ষে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই তথ্য জানানো হয়।

মতবিনিময়সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, হবিগঞ্জে কারখানা স্থাপনের পর থেকেই মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, স্থানীয়পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বর্তমানে চারটি ইটিপি রয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় দৈনিক ৬৬ লাখ লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন করা সম্ভব। এখানে বাতাস এবং শব্দদূষণও যাতে না হয় সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ছাড়পত্র পেয়েছে পার্কটি। উজান থেকে নেমে আসা দূষিত পানির প্রবাহ বন্ধ করা গেলে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য সুতাং নদী দূষণের হাত থেকে বাঁচবে।

তিনি আরো বলেন, প্রাণ আরএফএলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত আছেন ১০ লাখ মানুষ। সরাসরি কাজ করেন এক লাখ ১০ হাজার জন। এক লাখ চুক্তিবদ্ধ কৃষক আমাদের জন্য পণ্য উৎপাদন করে সরবরাহ করেন। ২৩টি পার্কে ৯টি ক্যাটাগরিতে এক হাজার ৮০০ ক্যাটাগরির পণ্য উৎপাদন করি আমরা। প্রতিদিন সারা বিশ্বের ৮.৫ বিলিয়ন কনজ্যুমার আমাদের পণ্য ব্যবহার করে। বাংলাদেশের শতকরা ৯৫ জন লোক প্রতিদিন আমাদের কোনো না কোনো পণ্য ব্যবহার করে।

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এম মঞ্জুরুল হক বলেন, এখানকার উৎপাদিত পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ১৪১টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে ২২ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে। কারখানায় কর্মরত লোকবলের ৮০ ভাগই স্থানীয়। তিনি জানান, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় উন্নত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে গ্রুপটি। হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জেনারেল ম্যানেজার আরএফএল-অ্যাডমিন ফজলে রাব্বি, সিনিয়র ম্যানেজার প্রাণ-অ্যাডমিন এহসানুল হাবিব ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) জিয়াউল হকসহ কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকরা ইটিপিসহ হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে সুতাং নদী দূষণের কারণে প্রাণ আরএফএলের দিকে অভিযোগ এলেও বাস্তবে দেখা যায় এই পার্কের উজান থেকেই প্রবাহিত খালে প্রবাহিত হচ্ছে কালো পানি।

মন্তব্য