kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

খেলাপিদের পুনঃ তফসিল সুবিধা কার্যকরের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃ তফসিল নীতিমালার যে সার্কুলার জারি করেছিল সেটা অবশেষে কার্যকর হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সার্কুলার নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ পরিপালন করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে আগামী দুই মাস ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধা নিতে পারবেন ঋণখেলাপিরা। তবে এ দুই মাস নতুন করে কোনো ঋণ পাবেন না তাঁরা।

সার্কুলারে বলা হয়, বিআরপিডি সার্কুলার নং ৫, তারিখ ১৬ মে ২০১৯-এর ওপর হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে জারিকৃত স্থিতাবস্থার ওপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ৮ জুলাই দুই মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন। ওই আদেশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের পরামর্শ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে পরিপালনের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে এ দুই মাস খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল হবে, কিন্তু নতুন কোনো ঋণ পাবেন না সুবিধাভোগীরা। কারণ রায়ে বলা আছে, নতুন ঋণ দেওয়া যাবে না। এর মানে তাঁরা কোনো ব্যাংক থেকেই নতুন ঋণ নিতে পারবেন না। শুধু ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধা নিতে পারবেন। গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট ও ৯ শতাংশ সরল সুদে ১০ বছরের জন্য ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে খেলপি ঋণ পুনঃ তফসিলের বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এতে পুনঃ তফসিলের সুবিধা নিতে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করার সময় নির্ধারণ করা আছে। এরই মধ্যে অনেক সময় চলে গেছে। ফলে এ সময়ের মধ্যে ঋণখেলাপিরা শুধু পুনঃ তফসিলের আবেদনই দাখিল করার সময় পাচ্ছেন। কারণ পুনঃ তফসিলের আবেদনের পর সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো পর্যালোচনা করে দেখবে।

এর আগে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে হাইকোর্ট এক আদেশে ওই নীতিমালার কার্যক্রমের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। গত ২৪ জুন অপর আদেশে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরো দুই মাস বাড়ান। এই দুটি আদেশ স্থগিত চেয়ে অর্থ বিভাগের পক্ষে গত ১ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করা হয় (লিভ টু আপিল)। ২ জুলাই এটা নিয়ে চেম্বার আদালতে শুনানি হয় এবং হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেন আদালত। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগের করা আবেদনটি ৮ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

মন্তব্য