kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় কেন চিহ্নিত করার দাবি

টানা দরপতনে পুঁজি হারিয়ে রাস্তায় বিনিয়োগকারীরা

► ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা
► দ্বিতীয় দিনের মতো মতিঝিলে বিক্ষোভ, আগামী রবিবার থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টানা দরপতনে পুঁজি হারিয়ে রাস্তায় বিনিয়োগকারীরা

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে মুখ্য করে পুঁজিবাজারের জন্য একগুচ্ছ প্রণোদনা দিলেও কার্যত কোনো উন্নতি নেই। বরং শেয়ার বিক্রির চাপে পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক ও লেনদেন কমছেই। একটানা পতনের পর পুঁজি হারিয়ে রাস্তায় নেমেছে বিনিয়োগকারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী মতিঝিলে বিক্ষোভ করেছে তারা।

তারা বলছে, সরকার পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিলেও একটি গোষ্ঠী পাতানো খেলায় মেতে উঠেছে। যোগসাজশ করে নিজেরা শেয়ার কেনা থেকে বিরত থেকে বাজারকে প্রভাবিত করছে। আর আস্থাহীনতা ও আতঙ্কে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় কেন সে বিষয়টি চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বাংলাদেশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে তারা। তারা জানায়, পুঁজিবাজারে দরপতনের মতো কোনো ইস্যু বা কারণ নেই তবুও বাজার প্রতিদিনই পড়ছে। আর বাজার পড়ে যাওয়ায় পুঁজি হারাচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বড়রা পুঁজি হারালেও তাদের পুষিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আছে। কিন্তু ছোটরা সেটা পারছে না। কোনো উপায় না পেয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যার প্রতিফলন আগামী বাজেটে দেখা গেছে। কিন্তু প্রণোদনার পরও বাজার নিয়ে পাতানো খেলা শুরু হয়েছে। একটি গোষ্ঠী নিজেরা কোনো শেয়ার কিনছে না, যাতে বাজার প্রভাবিত হচ্ছে। আর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় আতঙ্কে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীও শেয়ার বিক্রি করছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক কম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে নেমেছে, অতিমূল্যায়িত হওয়ায় এখন আর শেয়ার কিনছে না কেউ। আমরা বাইব্যাক আইন করার দাবি জানালেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেটি করছে না। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের যথাক্রমে ৩০ শতাংশ ও ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে বিধান করলেও কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নেই। আইন থাকলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেকে পাশ কাটিয়ে আইনের ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতায় শেয়ার জোগান না থাকলেও কম্পানির রাইট শেয়ার ও বোনাস শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ বিষয়ে আরো কঠোর হতে হবে।’

আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হওয়ার পথে। কোনো উপায় না পেয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে আবারও একসঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। বাজারের নিম্নমুখী অবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মূলধন প্রতিদিনই কমছে।’

লেনদেন তিন শ কোটির ঘরে : পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ থাকায় প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও লেনদেন। এ নিয়ে টানা পাঁচ কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেন কমতে কমতে তিন শ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি আট লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ৮ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৪৯ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপ থাকায় সূচক বৃদ্ধি পায়। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ থাকায় সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২২২ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৫৭ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৫৩ কম্পানির দাম বেড়েছে ১০৮টির, দাম কমেছে ২১৯টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬ কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আর তৃতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের লেনদেন হয়েছে আট কোটি ৮০ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা, আর সূচক কমেছে ২৯ পয়েন্ট।

মন্তব্য