kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

কোরবানির আগেই অস্থির আদার বাজার

► মৌসুম শেষ হওয়ায় চীনে আদার দাম বেড়ে গেছে
► নতুন মৌসুমের আদা বাজারে আসবে আগামী আগস্টের শেষ দিকে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরবানির আগেই অস্থির আদার বাজার

রমজানজুড়ে স্বস্তিতে থাকলেও কোরবানি ঈদ ঘিরে আদার দামে অস্থিরতা চলছে। মৌসুম শেষ হওয়ায় চীনে আদার দাম বেড়ে যাওয়ায় এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ক্রমাগত লোকসানে আদা আমদানিতে উৎসাহ নেই। ভোগ্য পণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গতকাল চীনা আদা বিক্রি হয়েছে কেজি ১১০ টাকায়। মে মাসের শেষে আড়তেই এই আদার দাম ছিল কেজি ১০০ টাকার নিচে। আড়তে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই খুচরা বাজারেও চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে আমদানীকৃত এই আদা।

দাম বাড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, মৌসুম শেষ হওয়ায় চীনে আদার দাম বেড়ে গেছে। আর বিকল্প দেশ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ায় আদার মৌসুম শেষ। ফলে চীন থেকেই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। আর এতেই বাজারে সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আর নতুন মৌসুমের আদা বাজারে আসবে আগামী আগস্টের শেষ দিকে। তখন কোরবানি ঈদ পার হয়ে যাবে। ফলে নতুন কোনো দেশ থেকে আদা এলে ঈদ পর্যন্ত বাজারে আদার সংকট থাকবে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আদার আমদানিকারক ফরহাদ ট্রেডিংয়ের কর্ণধার নুর হোসেন বলেন, ‘মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ায় আদার মৌসুম শেষ ফলে দাম চড়া। এখন টন ১৪৫০ ডলারে চীনা আদা কিনতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে খরচ পড়ছে ১১৬ টাকা। আড়তে পৌঁছতে আরো খরচ যোগ হবে। কিন্তু বাজারে তো দাম এর চেয়ে কম সুতরাং কে আমদানি করবে?

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আদা আমদানি করতে গিয়ে আমি একা ৭০ কোটি টাকা লস করেছি। ৭০ টাকায় কিনে এনে ২৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করে এই লস করেছি। এখন ব্যাংকগুলো আমাকে প্রতিদিন চিঠি দিচ্ছে টাকা পরিশোধের জন্য। কিন্তু আমি মাঠ ছেড়ে যাইনি অথচ সেই ব্যাংকই টাকা পরিশোধের জন্য এখন নতুন করে ঋণপত্র খুলতে আগ্রহী হচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০১৮ সাল এবং ২০১৯ সালের শুরু থেকেই আদার দামে পতন চলছে। কেনা দামের চেয়ে অনেক কমে আদা বিক্রি করতে গিয়ে অনেকেই লোকসানে পড়েছে। সেই দেনা পরিশোধ করতেই এখন তারা মনোযোগ দিচ্ছে। নতুন করে আদা আমদানিতে উৎসাহী হচ্ছে না।

খাতুনগঞ্জের আদা আমদানিকারক ফুলকলি গ্রুপের জাবেদ ওসমান বলেন, আমদানি খরচ বেশি পড়ায় নতুন করে অনেকেই আদা আমদানির ঝুঁকি নিতে চাইছে না। এর পরও কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়ার আশায় ঝুঁকি নিয়ে করছে, কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই কম।

জানা গেছে, সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশে বছরে এক থেকে সোয়া লাখ টন আদা আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। এর বেশির ভাগই আসে চীন থেকে। পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকেও আসে আদা।

আদার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান আলম বাদশা বলেন, চীনা আদা কেজিতে ১৩০ টাকা এবং মিয়ানমারের আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে আদার দাম বাড়ছে। ভারত থেকে আদা আনতে গেলেও পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। এখন সরকারের উচিত কোরবানি ঈদের আগে প্রকৃত আমদানিকারকদের নিয়ে বৈঠকে বসে নতুন দেশ থেকে আদা আমদানিতে সহযোগিতা করা এবং ব্যাংকঋণ নিশ্চিত করা। তাহলেই বাজার নাগালের মধ্যে থাকবে।

মন্তব্য