kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

বাজেট নিয়ে আপত্তির তালিকা তৈরির নির্দেশ

ফারজানা লাবনী   

২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেট নিয়ে আপত্তির তালিকা তৈরির নির্দেশ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত রাজস্ব বাজেটের কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জোরালো আপত্তি জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করেছে। এসব আবেদন খতিয়ে দেখে তার তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এ চিঠি পাওয়ার পর এনবিআর কর্মকর্তারা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। আজ সোমবার তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। এ প্রতিবেদন থেকে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত বাজেটে কোনো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্দেশ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বাড়াতে গিয়ে জনগণের ভোগান্তি হতে পারে বা কষ্টের হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বাজেটে না নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নকালীন সময়েই এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেট চূড়ান্তকরণের আগে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’

এনবিআর কর্মকর্তাদের তৈরি প্রতিবেদনে শিল্পে ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের নাম উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, এসব কাঁচামালে ক্ষেত্র বিশেষে শুল্ক কমানো বা শুল্ক ছাড়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা থেকে পুঁজিবাজার গতিশীলে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর কমাতে, করপোরেট করের হার কমাতে, করমুক্ত আয়সীমা বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম ৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারে, জোগানদারের ওপর ভ্যাটের হার ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য) ও ভার্চুয়াল ব্যবসায় রাজস্ব ছাড়ে, অনলাইন ব্যবসায় ভ্যাট কমাতে, পুঁজিবাজারে বোনাস ডিভিডেন্টের ওপর ১৫ শতাংশ নতুন কর কমাতে বা প্রত্যাহারে, ঠিকাদারের লইসেন্স দ্বিতীয়বার নবায়নের ফি তিন হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ধার্য করতে আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের জোরালো আপত্তিতে এরই মধ্যে এনবিআর বিশেষ আদেশ দিয়ে শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করেছে। তবে কাঁচামাল আমদানিতে এ কর প্রত্যাহারে আবেদন করলেও তা কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যহারে এনবিআরের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক বাজেট প্রণয়নে চেষ্টা করা হয়েছে। এর পরও যদি কোনো পদক্ষেপে কারো আপত্তি থাকে বা কেউ মনে করেন যে প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপে কারো ভোগান্তি হবে। তা খোলা মনে এনবিআরকে জানাতে পারেন। অবশ্যই এসব আপত্তি বা মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখা হবে।

মন্তব্য