kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

বিনিয়োগ সহায়ক নয় করপোরেট কর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগ সহায়ক নয় করপোরেট কর

দেশের অর্থনীতিতে মূল সমস্যা বেসরকারি বিনিয়োগের অভাব। এ কারণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিনিয়োগ বাড়াতে যথেষ্ট নয়। বর্তমানে দেশে যে করপোরেট কর কাঠামো আছে তা বিনিয়োগ সহায়ক নয়। আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিজেরাই নীতি প্রণয়ন করছে, আবার নিজেরাই রাজস্ব আদায়ের কাজ করছে। ফলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণে তারা সহজ পথ বেছে নিচ্ছে। এতে বিদ্যমান করদাতার ওপর করের বোঝা বাড়ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (অ্যামচেম) বাজেট বিশ্লেষণ নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় এসব কথা বলা হয়। অ্যামচেমের সভাপতি নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এবং ফরেন চেম্বার অব বাংলাদেশের (ফিকি) সভাপতি শেজাদ মুনিম। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাজেটে দেওয়া বিভিন্ন কর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বলছেন, উঠতি অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট করহার কমানোর বিকল্প নেই। এটি কমলে দেশে বিনিয়োগ আরো বাড়বে।

বিদ্যমান করহার অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির করপোরেট করহার ২৫ শতাংশ, অতালিকাভুক্ত  কম্পানির করহার ৩৫ শতাংশ। পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার ৩৭.৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কম্পানিতে করপোরেট কর ৪০ শতাংশ। সিগারেট, বিড়িসহ তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কম্পানিতে কর ৪৫ শতাংশ। মোবাইল ফোন অপারেটরের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কম্পানির করপোরেট কর ৪৫ শতাংশ, তালিকাভুক্ত হলে করহার ৪০ শতাংশ।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, অর্থনীতিতে বড় সমস্যা বিনিয়োগ নেই। সহজে ব্যবসা করার সূচকে (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিনিয়োগের আরো একটি বড় সমস্যা পুঁজির সহজলভ্যতা নেই। কারণ পুঁজির দুটি খাত-ব্যাংক ও পুঁজিবাজার দুটিই সমস্যাগ্রস্ত।

তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে ব্যাংকের সিরিয়াস অবস্থা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিনিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ছে না। এবারের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬.৫ শতাংশ। কিন্তু বিতরণ হয়েছে মাত্র ১২.৪ শতাংশ। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, দেশীয় বিনিয়োগে মন্দা চলছে। কারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো যায়নি। অন্যদিকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) অবস্থা আরো খারাপ। কারণ বিদেশিরা দক্ষ জনবল খোঁজে। কিন্তু এর ঘাটতি রয়েছে। স্মার্টফোনের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। এটি আনস্মার্ট কাজ।

তিনি আরো বলেন, রুলস অব বিজনেস অনুসারে এনবিআরের চেয়ারম্যান অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব। তাঁর কাজ সম্পদ সংগ্রহ করা। এ কারণে কর আহরণ ও পলিসি তৈরি করা এই দুই কাজকে পৃথক করা জরুরি।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজেটে মূল সমস্যা রাজস্ব আদায়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার জরুরি। প্রশাসন ও কর আদায় ব্যবস্থা আলাদা করা ছাড়া রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম হলো টেলিকম খাত। করপোরেট, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণ শুল্কসহ সব ধরনের কর দেয় এ খাত। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইলে কথা বলার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। অর্থনীতিতে আরেকটি অবাক বিষয় হলো, বিনিয়োগ বাড়েনি। কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে হিসাবে কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

শেজাদ মুনিম বলেন, বাজেটের ধারাবাহিকতা আছে এটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু বিভিন্ন কর প্রস্তাব বিনিয়োগের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কম্পানির রিজার্ভ এবং রিটেইল আর্নিংসের ক্ষেত্রে যে কর আরোপ করা হয়েছে, সেটি যৌক্তিক নয়। অ্যামচেম সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তিনটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে বাজেটের আকার, কর জিডিপি রেশিও এবং নতুন ভ্যাট আইন।

মন্তব্য