kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

কম্পিউটার, ই-কমার্সে ভ্যাট অব্যাহতি চায় চার সংগঠন

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে করের বোঝা ডিজিটাইজেশন পরিপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তথ্য-প্রযুক্তি খাতে করের বোঝা ডিজিটাইজেশন পরিপন্থী

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। ছবি : কালের কণ্ঠ

কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানি-পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ ও বিক্রির ওপর বাজেটে মূসক (মূল্য সংযোজন কর) ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট সব হার্ডওয়্যার সামগ্রীর ওপর ৫ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদীয়মান ই-কমার্স খাতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপসহ অতিরিক্ত করভার ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের চার সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, বাজেটের এসব প্রস্তাব ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট নিয়ে গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নেতারা। জোটবদ্ধভাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)। সোনারগাঁও হোটেলের সুরমা হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বেসিসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিসিএস সভাপতি শাহীদ-উল-মুনির, আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম, বাক্যর মহাসচিব তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বেসিস সভাপতি বলেন, ‘আইসিটি খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে বারাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ সর্বশেষ অর্থবছরের চেয়ে দুই হাজার ১৭৬ কোটি টাকা বেড়েছে। গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বরাদ্দ এ বছর ১৯৩ কোটি টাকা বেড়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের (স্টার্টআপ) জন্য সরকার ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি এই বাজেটে সরকার সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল বিজনেসের ওপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু একই সঙ্গে ভার্চুয়াল বিজনেস তথা ডিজিটাল কমার্সের ওপর ভ্যাট শূন্য শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৫ শতাংশ হয়েছে, যা বিকাশমান এই খাতের অগ্রগতি ব্যাহত করবে। আমরা তাই বিকাশমান এই খাতের জন্য আগামী কয়েক অর্থবছরের জন্য পুনরায় ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানাই।’

সৈয়দ আলমাস কবীর আরো বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে সামগ্রিক তথ্য-প্রযুক্তি খাতের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিলাম। আউটসোর্সিং খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন বাবদ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্পের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব ছিল। আমরা সংশোধিত বাজেটে এই প্রস্তবগুলো পুনরায় বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আইটিএসের (ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবল্ড সার্ভিসেস) ওপর ৫ শতাংশ মূসক আরোপ করা হয়েছে, যা এ খাতের বিকাশের অন্তরায়। এ খাত থেকে সম্পূর্ণরূপে মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আইটিএসের সংজ্ঞা পরিবর্ধনের দাবি জানানো হয়।

বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের ওপর মূসক অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে। কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট সব হার্ডওয়্যার সামগ্রীর আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। এই করভার ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে বিবেচনায় নিয়ে ৫ শতাংশ আগাম কর থেকে অব্যাহতি প্রদান করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানি-পরবর্তী পর্যায়ে মূসক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের ৫ শতাংশই বহাল রাখা হোক।

আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, ফাইবার অপটিক কেবলের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও প্রসারে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধতা তৈরি করবে, যার প্রভাব সরকারি মেগা প্রকল্পগুলোতেও পড়বে।

বাক্যর মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, আইটিএসের সংজ্ঞায় বিপিওর  কথা উল্লেখ থাকলেও বিপিওর মধ্যে বিভিন্ন সেবা রয়েছে। তাই বিপিওর সংজ্ঞা আরো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর আলোচ্য বাজেটে মূসক ৫% বলবৎ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

মন্তব্য