kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

উদ্যোক্তা

পাটপণ্যের নিপুণ কারিগর

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটপণ্যের নিপুণ কারিগর

ছাকেরা বানু

পাটপণ্যের উদ্যোক্তা ছাকেরা বানু একসময় শিক্ষকতা করতেন। পেশাগত জীবনে অবসর নিয়ে তিনি পাটপণ্য তৈরি ও বিপণনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত তিন শতাধিক নারীকে তিনি ব্লক, বাটিক ও হস্তশিল্পের কাজ শিখিয়েছেন, তাদের মধ্যে শতাধিক নারী এখন একেকজন উদ্যোক্তা। তারা নিজেদের মতো করে নানা পণ্য তৈরি ও বিপণন করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

তারা পাটপণ্য হিসেবে নিত্যব্যবহার্য ল্যাপটপ ব্যাগ, হাতপাখা, নানা ধরনের ফোল্ডিং ব্যাগ, টিস্যু বক্স, হটপট বহন উপযোগী ব্যাগ, স্কুলব্যাগ ও স্যান্ডেল তৈরি করছে। প্লাস্টিকের তৈরি ‘পাটকন্যে’ পুতুলটি বেশ সাড়া ফেলেছে। পুতুলটিকে পাটপণ্যের পোশাক দিয়ে সাজানো হয়েছে।

পাটের কাপড় দিয়ে নানা ধরনের পণ্য তৈরির পেছনের মানুষটি ছাকেরা বানু। একাত্তরে শহীদ পিতার সন্তান ছাকেরা বানুর জীবন শুরু হয়েছিল বেশ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তার পরই বাঙালি সাধারণ পরিবারে কন্যাসন্তান হলে যা হয়, অভিভাবকরা তাঁর বিয়ে দিয়ে নিশ্চিত হন। কিন্তু ছাকেরা বানু সব সময় চাইতেন ভিন্ন ধরনের কিছু করতে। নিজে আগে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করেন। হাতে তৈরি করেন নানা পণ্য। নিজে শিক্ষকতাও শুরু করেন। বাড়িতে নারীদের হাতের কাজে দক্ষ করার জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেন। উৎপাদিত পণ্য বিপণনেরও চেষ্টা করেন। এখন তিনি পাটের কাপড়কে অবলম্বন করে নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে চলেছেন।

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকার কাজী আ. করিম রোডে ছাকেরা বানুর বাড়ি। ব্যাংকার স্বামী কামরুল ইসলাম ২০১০ সালে প্রয়াত হয়েছেন। দুটি পুত্রসন্তান। তারা কাজের সূত্রে ঢাকায় বসবাস করে। তিনি এখন ওই বাড়িতেই গ্রিন নারী কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এখন প্রতিষ্ঠানটিতে সাতজন নারী কাজ করে। সবাই পাটের তৈরি কাপড় দিয়ে নানা পণ্য তৈরি করে।

সুবিধাবঞ্চিত তিন শতাধিক নারীকে তিনি ব্লক, বাটিক ও হস্তশিল্পের কাজ শিখিয়েছিলন, তাদের মধ্যে শতাধিক নারী এখন একেকজন উদ্যোক্তা। তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে নানা পণ্য তৈরি ও বিপণন করে। তারা এখন সবাই স্বাবলম্বী।

ছাকেরা বানু এখন যেসব পণ্য তৈরি করেন, তা বিপণনের জন্য একটি দোকান আছে। অবশ্য ওই দোকানে অন্যদের তৈরি কিছু নির্দিষ্ট পণ্য রাখা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেলায় উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী প্রদর্শিত হয়। তাঁর কথায়, ‘পণ্য বিপণন করা এখনো আমাদের দেশে কঠিন।’

তাঁর মতে, এসব উদ্যোক্তা আর্থিক সমস্যায় ভোগে। পুঁজির সংকট তীব্র। ব্যাংকখাত এখনো সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কাজের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে অর্থের জোগান দেয় না।  সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে অনেক নারী উদ্যোক্তা পাওয়া যেত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা