kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

আইএলওর সম্মেলনে মালিকদের দাবি

শ্রম আইন মেনেই শ্রমিক ছাঁটাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশের শ্রম আইন মেনেই তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের কর্মচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাক খাতের মালিকপক্ষের সংগঠনের প্রতিনিধিরা। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) ১০৮তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় তাঁরা এসব কথা বলেন।

তাঁরা বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে কর্মচ্যুত শ্রমিকরা কারখানা ভাঙচুরসহ রাষ্ট্রদ্রোহ কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। এর পরও আমরা শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের বলেছি, কোনো শ্রমিক অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হলে তাদের তালিকা দিন। এদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এখন পর্যন্ত কোনো স্বচ্ছ তালিকা আমাদের দিতে পারেননি।’

গতকাল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইএলওর সদর দপ্তরে ১০৮তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন-২০১৯-এর প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, নিটপণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ, ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) নেতারা।

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে তাঁরা বলেন, সম্মেলনে শ্রমিকদের মজুরি, গত বছর ডিসেম্বরে মজুরি নিয়ে আন্দোলন করা চাকরিচ্যুত শ্রমিক, ইউরোপের ক্রেতা সংগঠন অ্যাকর্ডের চলে যাওয়া এবং পোশাকের ন্যায্য মূল্যের বিষয়টি উঠে আসে। বিকেএমইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জেনেভা থেকে জানান, শ্রমিকের চাকরিচ্যুতি, মজুরি, অ্যাকর্ড এবং শ্রমিকদের বীমা স্কিম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বলা হয়, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবি ১২ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে, প্রকৃত অর্থে এই তথ্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের  কাছে সঠিক তথ্য চেয়েছি। তাঁরা প্রকৃত চিত্র এখনো দিতে পারেননি। এ ছাড়া যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে, তারা কারখানা ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রদ্রোহ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে আমরা মনে করি। তাই তাদের শ্রম আইন মেনেই কর্মচ্যুত করা হয়েছে।’

ন্যূনতম মজুরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিচ্ছি। অন্যদিকে ক্রেতারা শুধু কাপড় আর অ্যাকসেসরিজের মূল্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতে চায়। ন্যায্য দাম দিতে চায় না। আর ক্রেতারা দাম দিয়ে শ্রমিকদের সহযোগিতা করছে না।’ তাই বিষয়টি আইএলওর পক্ষ থেকে ক্রেতাগোষ্ঠীর নজরে আনার দাবি জানান তাঁরা।  ১২ দিনের এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ২১ জুন।

 

মন্তব্য