kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বাজেটে পুঁজিবাজার

করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা বাড়বে বিনিয়োগকারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা বাড়বে বিনিয়োগকারীর

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়ে করছাড় রয়েছে তবে এবার সেটি বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। যদিও পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি করমুক্ত লভ্যাংশ আয় এক লাখ টাকা করতে হবে। তালিকাভুক্ত একটি কম্পানি মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারকে দেয় সেটি লভ্যাংশ হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা বাড়ানো হলে বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বাড়বে। কারণ পুঁজিবাজারের বর্তমান মন্দাবস্থায় লভ্যাংশ আয় করমুক্ত সীমা বাড়লে বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুঁজিবাজার গতিশীলতা আনয়ন ও উন্নয়নে সরকারের কাছে কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। সে সময় এনবিআর কর্তৃপক্ষ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ছাড়ের আশ্বাস দেয়।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রণোদনা দেবে সরকার। পুঁজিবাজার গতিশীল করতে নির্দেশনাও থাকবে এবারের বাজেটে। পুঁজিবাজারে প্রণোদনার বিষয়ে সবিস্তারে জানা না গেলেও বিনিয়োগকারীর স্বার্থে করমুক্ত লভ্যাংশসীমা বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া দ্বৈত করনীতি ও পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করে সাদা করার সুযোগও থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে পুঁজিবাজার গতিশীল করতে সরকারের প্রচেষ্টা আরো বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণে উৎসাহী করতে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি এতে সুফল আসবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে পুঁজিবাজার গতিশীল রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীদের এ বাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন সুবিধা দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে সময়ক্ষেপণ না করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।’

ডিএসইর একটি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো দাবি জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের প্রণোদনার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন বাজেটের দিকে চেয়ে আছে। করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা বাড়লে বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বাড়বে, কিন্তু পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে আরো অনেক বিষয়ে নির্দেশনা থাকা দরকার। দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি যেভাবে এগোচ্ছে, পুঁজিবাজার কিন্তু সেভাবে এগোচ্ছে না। কাজেই নতুন কম্পানি তালিকাভুক্তিতে করপোরেট করে ছাড়, দ্বৈত করনীতি প্রত্যাহারের বিষয়েও নির্দেশনা থাকতে হবে।’

 

মন্তব্য