kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মরিচের বাম্পার ফলনেও দুর্ভোগ কাটেনি চাষিদের

অমিতাভ দাশ হিমুন, গাইবান্ধা   

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরিচের বাম্পার ফলনেও দুর্ভোগ কাটেনি চাষিদের

গাইবান্ধার ফুলছড়ির বাজারে মরিচ নিয়ে কৃষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার ফুলছড়ির বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন হলেও দুর্ভোগ কাটেনি চাষিদের। চরবাসীদের ভাষায় মরিচ তাদের কাছে ‘হামারঘরের লাল সোনা’। তাদের আর্থিক স্বাচ্ছ্যন্দের অর্ধেকেরও বেশি আসে এই মরিচ বিক্রি করে। কিন্তু মরিচ নিয়ে হাটে এসে বিপাকে পড়ছে চরের মরিচ চাষিরা। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পুরনো উপজেলা হেডকোয়ার্টার্স মাঠে ২০০৪ সাল থেকে বসে মরিচের হাট।

প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখন পর্যন্ত কেউ তাদের জন্য আলাদা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে দেয়নি। এই সুযোগটি নেয় ফড়িয়া দালালররা। তাই অসহায় চাষিরা বাধ্য হয় কম দামে কষ্টের ফসল বেচতে। হাট ও চাষিদের কাছে জানা গেছে, প্রাণ ও এসিআই কম্পানির প্রতিনিধি এবং ঢাকা, বগুড়া, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এখান থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যায়। প্রতি হাটে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন চাষি ৭০০ থেকে এক হাজার মণ মরিচ বিক্রি করে। অথচ এই চাষিদের জন্য হাটে কোনো স্থাপনা নেই।

ফজলুপুর ইউনিয়ন থেকে মরিচ বিক্রি করতে আসা আলী হোসেন জানান, সকাল ৭টা থেকেই হাট শুরু হয়, সে জন্য হাটবারের আগের রাতে চর থেকে নৌকায় করে মরিচ নিয়ে আসতে হয়। হাটে থাকার কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে নৌকাতেই রাত কাটাতে হয়। রাগে-দুঃখে অনেকে ফড়িয়াদের কাছে যা পায় সেই দামে বেচে বাড়ির পথ ধরে।

হাটে আসা ছেড়িমারার চরের জায়গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিয়ে তাদের অনেক টাকা আয় হয়। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার বেলায় কেউ নেই।’

হাট ইজারাদার মুক্তার মিয়া বলেন, এ বছর তিনি ৮৪ লাখ টাকা দিয়ে হাট ইজারা নেন। আগের জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল হাট পরিদর্শনে এসে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ভুট্টা ও মরিচ কেনাবেচার জন্য দুটি শেড নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, দেড় বছর আগে জেলা প্রশাসক ফুলছড়ির হাটে শেড নির্মাণ করার জন্য ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। কিন্তু তিনি হঠাৎ করে বদলি হয়ে যাওয়ার পর কাজটা আর এগোয়নি। এ ব্যাপারে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম টলস্টয় বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেটা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন নতুন উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে হাটে শেড নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা