kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ

বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের নিরাপত্তা মান নিয়েও প্রশ্ন!

বাণিজ্য ডেস্ক   

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের নিরাপত্তা মান নিয়েও প্রশ্ন!

আমেরিকান বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের দুর্দিন যেন কাটছেই না। এবার কম্পানির জনপ্রিয় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের নির্দিষ্ট দুটি সংস্করণের ব্রেক ও স্টিয়ারিং নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

ইউএস ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির (এফএএ) ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, বাজারে আসা ৭৮৭-৯ এবং ৭৮৭-৮-এর টায়ার ও হুইল যেকোনো মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিমানের ব্রেক ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যেতে পারে। বিমানের অনিরাপদ এ পরিস্থিতি দ্রুত সংস্কারের তাগিদ দিয়ে এফএএ ৬ জুন থেকে সংস্কারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। জবাবে বোয়িং বলেছে, এসব সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যে করা হয়ে গেছে।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বিশ্বের অন্তত ৭২টি বৃহৎ বিমান সংস্থা ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ব্যবহার করে। বোয়িং এ পর্যন্ত ৮২৯টি বি৭৮৭ সংযোজন ও সরবরাহ করেছে ক্রেতাদের। আরো ৫৮৪টি সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত ২ মে জারি করা নির্দেশনায় এফএএ জানায়, ‘বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং ৭৮৭-৯ বিমানের উড্ডয়ন সক্ষমতা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হলো। এ দুটি সংস্করণের টায়ার বা হুইলের থ্রেট জোন সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে একটি প্রধান ল্যান্ডিং গিয়ার (এমএলজি) ট্রাকের ব্রেকিং বা গতিরোধক অকেজো হয়ে যেতে পারে, নোস হুইল স্টিয়ারিং বিকল হতে পারে এবং ভূমিতে নির্দেশনা নিয়ন্ত্রণ কাজে না লাগতে পারে।’ নির্দেশনা অনুযায়ী বোয়িংকে হাইড্রোলিক টিউব, চেক বাল্ব এবং নতুন উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে।

আমেরিকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দেশটির ৮৭টি বিমান এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে। সংস্কারের বিষয়টিকে একটি চলমান ইস্যু উল্লেখ করে বোয়িংয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘পদ্ধতিগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে অনেক আগেই এ সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। ৭৮৭ মডেল উৎপাদনের সময়ও এ ব্যবস্থা ছিল। এ নিয়ে এফএএর সঙ্গে একান্তভাবে কাজ করছে বোয়িং। বিমানের উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে এ নিয়ে কাজ করছে বোয়িং।’

গত মার্চের পর থেকে ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের দুটি বৃহৎ দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এর পর থেকেই নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্কের মুখে পড়ে বোয়িং। ওই দুটি দুর্ঘটনার পর এখন নতুন বিতর্ক তৈরি হলো ৭৮৭ ড্রিমলাইনার নিয়ে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরেও দুটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ রয়েছে, আরো দুটি এ বছর আসার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফারহাত হোসেন জামিল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমেরিকান বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যেসব ড্রিমলাইনারের ব্যাপারে সতর্ক করেছে সেগুলো অনেক আগের, ৭২০ সিরিজের। কিন্তু আমরা নিয়েছি ৭৫০ সিরিজের অত্যাধুনিক বিমান। ফলে আমাদের এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

এদিকে এফএএর এই সতর্কবার্তা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া (এআই) জানিয়েছে, এর আওতায় তাদের ২৩টি ড্রিমলাইনার বি৭৮৭ পড়বে। এগুলো উড্ডয়ন বন্ধ রাখতে হবে না, বরং পাঁচ বছরের মধ্যে এর সংস্কার চলবে। এ ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহের কথা জানিয়েছে এআই।

সম্প্রতি বোয়িং এক ঘোষণায় জানিয়েছে, তাদের কিছু মধ্যম মানের ৭৩৭ বিমানের ডানায় ত্রুটি থাকতে পারে। এর মধ্যে ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানও রয়েছে। অপারেটরগুলো যদি এসংক্রান্ত কোনো ত্রুটি খুঁজে পায় তাহলে বোয়িং তা সংস্কার বা পরিবর্তন করে দেবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা