kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ কড়াকড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ কড়াকড়ি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ইকুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টিবল কিউমিউলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টিবল বন্ড, ডিবেঞ্চার, ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড প্রভৃতি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে এ নীতিমালা মেনেই। এত দিন এসব সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগে কোনো নীতিমালা ছিল না। ফলে খেয়ালখুশিমতো বিনিয়োগের সুযোগ পেত ব্যাংকগুলো। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে নীতিমালার বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া এবং অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগের নিয়মকানুন ঠিক করে দেওয়া পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হবে। কারণ এ নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলো নন-সিকিউরিটিজের চেয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বেশি উৎসাহিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, এত দিন অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা ছিল না। ফলে ব্যাংকগুলো এসব সিকিউরিটিজে খেয়ালখুশিমতো বিনিয়োগ করে আসছিল। এখন নীতিমালার মাধ্যমে বিনিয়োগ নিয়মের মধ্যে আনা হলো। কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়িও আরোপ করা হয়েছে। এতে তারা অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের পরিবর্তে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে বেশি উৎসাহিত হবে।    

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, অতালিকাভুক্ত বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের (একক ও সমন্বিত) হিসাবে ধরা হবে না। এখন সেখানে বিনিয়োগের নীতিমালাও দেওয়া হলো। এতে এখান থেকে টাকা বিনিয়োগ হিসেবে পুঁজিবাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলো।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংক কম্পানি আইনের ২৬(ক)১ ধারা অনুসারে ইকুইয়টি শেয়ারের মোট ক্রয়মূল্য বিনিয়োগকারী ব্যাংকের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের মোট পরিমাণের ৫ শতাংশের বেশি হবে না এবং ক্রয়কৃত শেয়ারের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি হবে না। এই শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে প্রতি ইউনিট শেয়ারের ক্রয়মূল্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট সময়ের নিট অ্যাসেট ভেল্যুর (এনএভি) ১১০ শতাংশের বেশি হবে না। শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ওই কম্পানির ওপর বিনিয়োগকারী ব্যাংকের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিবেচনায় প্রচলিত রীতি অনুসারে ইকুইয়টি মেথড অনুসরণে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

বিনিয়োগকৃত প্রেফারেন্স শেয়ার নন-কনভার্টিবল কিউমিউলেটিভ হতে হবে। প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট কম্পানির ক্ষেত্রে ব্যাংকের সিঙ্গেল এক্সপোজার লিমিট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রেফারেন্স শেয়ারের মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হবে না এবং সুদ বা নগদ ডিভিডেন্ডের হার সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যেকোনো হিসাববর্ষ শেষে নির্ধারিত সুদ বা নগদ ডিভিডেন্ড পরিশোধিত না হলে সুদসহ আসল পরিমাণের ওপর ২৫ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া এরূপ কম্পানি খেলাপি হিসেবে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যাংক কম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে। প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগকে ঋণ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রচলিত নিয়মানুসারে সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পাবলিক সেক্টর এনটিটি (পিএসই) ছাড়া অন্যান্য ইস্যুয়ার কর্তৃক বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ইস্যুকৃত নন-কনভার্টিবল বন্ড বা ডিবেঞ্চারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিএসইসি কর্তৃক অনুমোদিত প্রজেক্ট স্পেসিফিক (এসপিভি) বা সমজাতীয় তহবিলের মাধ্যমে সম্পাদিত হতে হবে। পিএসই ছাড়া অন্যান্য ইস্যুয়ারের ক্ষেত্রে বন্ড বা ডিবেঞ্চারের মোট ইস্যুকৃত পরিমাণের ন্যূনতম ১০ শতাংশের সমপরিমাণ একটি সিংকিং ফান্ড থাকতে হবে।

মন্তব্য