kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিয়ে শঙ্কা

১৩৫ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কারখানায় বিশেষ নজর শিল্প পুলিশের

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩৫ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কারখানায় বিশেষ নজর শিল্প পুলিশের

চট্টগ্রামের বেশির ভাগ শিল্প-কারখানার বেতন দেওয়া হয় সাধারণত পরবর্তী মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে। সেই হিসেবে এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হয়নি চট্টগ্রামের অধিকাংশ কারখানায়। শ্রম মন্ত্রণালয় এখনো সময় বেঁধে না দিলেও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মে মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে জুন মাসের ৩ তারিখের মধ্যেই। এর আগে মে মাসের শেষ দিকে পরিশোধ করতে হবে বোনাস। সব মিলিয়ে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে তিনটি বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে কারখানা মালিকদের। স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থের সংস্থান করার কঠিন চাপে পড়েছেন তাঁরা। যদিও সম্ভাব্য এ চাপের ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই তাঁরা ওয়াকিবহাল। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছেন।

এদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৩৫টি কারখানাকে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এসব কারখানাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্প পুলিশ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের গার্মেন্টস ও এর বাইরের মোট এক হাজার ২০২টি কারখানার ঈদ পূর্ববর্তী বেতন-বোনাস নির্বিঘ্নে পরিশোধের স্বার্থে আগামী সপ্তাহ থেকেই গ্রুপভিত্তিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোমতাজ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রমজানের আগের দিন গত ৬ মে হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সানম্যান গ্রুপের গোল্ডেন হরাইজন কারখানাটি। কাজ না থাকার অজুহাতে বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে এক হাজার ৩০০ শ্রমিকের কারখানাটি বিনা নোটিশে বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন কারখানার শ্রমিকরা। সানম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান মালিক এম এ মান্নান ‘বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’ দলের মহাসচিব।

সূত্র জানায়, ঈদের বাড়তি বেতন-বোনাসের ধাক্কা সামাল যেন না দিতে হয় এ কারণেই রমজানের আগেই কোনো কোনো কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই বকেয়া ভাতার দাবিতে বিজিএমইএ, চট্টগ্রাম কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট করছে কারখানার শ্রমিকরা।

আসন্ন ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে কারখানা মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে বলে মনে করেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিসেম্বরে নতুন বেতন কাঠামোয় শ্রমিকদের গড় বেতন বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া অল্প দিনের ব্যবধানে আরেকটি বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা মালিকদের জন্য অবশ্যই প্রচণ্ড চাপের। কারণ শ্রমিকদের এই বেতন বোনাস মালিকদের ব্যক্তিগতভাবে সংস্থান করতে হয়।’

বিজিএমইএ এখনো বেতন-বোনাস পরিশোধে মনিটরিং সেল গঠন করেনি বলে জানান বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ আতিক। তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এসংক্রান্ত সেল গঠন হয়ে যাবে। তবে এমনিতেই আমাদের সারা বছর মনিটরিং থাকে। পোশাকের উৎপাদন খরচ যেমন বেড়েছে তেমনি শ্রমিকদের বেতনও বেড়েছে। তার পরেও মালিকরা তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৩৫টি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিল্প পুলিশ। চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের তত্ত্বাবধানে এক হাজার ২০২টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে আরএমজি কারখানা ৬৯৭টি এবং নন-আরএমজি ৫০৫টি। এসব কারখানায় মোট শ্রমিকের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার। এর বাইরে সরকারি পাটকল আছে আটটি।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোমতাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৭০০ ফোর্স প্রতিনিয়তই শিল্প এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি রাখছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা