kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বব্যাংক ও পিআরআই কর্মশালা

বাণিজ্য খরচ বেশি বাংলাদেশে

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের বাণিজ্য খরচ অন্য অনেক দেশের চেয়ে বেশি। গতকাল পিআরআই ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য উল্লেখ করেছেন বক্তারা। পিআরআইয়ের কার্যালয়ে এ কর্মশালায় তাঁরা বাংলাদেশের বাণিজ্য বাধা, অবকাঠামো, রাজস্ব নীতি, ট্যারিফ ভ্যালু, সীমান্তে নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বাধা দূর করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার এবং বিশ্বব্যাংকের অ্যাকটিং কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেন। কর্মশালাটির উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতা হলো রপ্তানির জন্য পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা। আমাদের রপ্তানি খাত বৈচিত্র্যময় করতে হবে। এটি বিবেচনায় রেখে আগামী বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে পোশাক খাতে যেসব প্রণদোনা দেওয়া হয় অন্য সব রপ্তানি খাতেও একই ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী সংস্থা বলে যে, ‘বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি কিন্তু বাস্তবে রপ্তানিকারকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে জানা যায়, প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন হয়নি। কাগজে-কলমে পোশাক খাতের মতোই সুবিধা থাকলেও বাস্তবে হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতির বিষয় সম্পর্কে সালমান ফজলুর রহমান বলেন, ‘এপ্রিল মাসের মধ্যে আমাদের অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল। আমরা স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব এমন পদক্ষেপগুলো নিয়েছি। সেটা ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। আমি আত্মবিশ্বাসী এবং আশাবাদী যে অক্টোবরে প্রকাশ পাওয়া র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১৭৬ থেকে ১২৫ তে উন্নীত হবে। এ ছাড়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মধ্যে আছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা। কর্মশালার প্রথম সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ছিলেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ড. সঞ্জয় কাঠুরিয়া। প্যানেল আলোচনায় ছিলেন প্রাণ আরএফএলের সিইও আহসান খান চৌধুরী, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম।

ড. সঞ্জয় কাঠুরিয়া উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়নের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের বাইরে বিনিয়োগ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নীতি পর্যালোচনার পরামর্শও দেন। বাণিজ্য খরচ প্রসঙ্গে সঞ্জয় কাঠুরিয়া ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, বাংলাদেশ, নেপাল এই দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য খরচের চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্য খরচ ব্রাজিলের চেয়ে নেপালের সঙ্গে বেশি। এ ছাড়া তিনি উত্তর-পূর্ব ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কানেকটিভিটি জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। দ্বিতীয় সেশনে মূল উপস্থাপনায় ছিলেন ড. জায়েদী সাত্তার। এই সেশনে সভাপতির ভূমিকায় ছিলেন এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা