kalerkantho

শনিবার । ১৪ চৈত্র ১৪২৬। ২৮ মার্চ ২০২০। ২ শাবান ১৪৪১

পায়রা বন্দরে ধারাবাহিক পণ্য খালাস শুরু জুলাইতে

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পায়রা বন্দরে ধারাবাহিক পণ্য খালাস শুরু জুলাইতে

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আমদানীকৃত কয়লা খালাসের মাধ্য দিয়ে আগামী জুলাই  থেকে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ধারাবাহিক পণ্য খালাস শুরু হচ্ছে। বর্তমানে রাবনাবাদ চ্যানেলে ছয় মিটার গভীরতার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন কয়লা বোঝাই প্রতিটি জাহাজ কয়লা নিয়ে সরাসরি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টার্মিনালে ভিড়বে। একই সঙ্গে পায়রা বন্দরকে ঘিরে কলাপাড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিমানবন্দর, ঢাকা হতে পায়রা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন, ডকইয়ার্ড ও শিপ ইয়ার্ড, ইকোট্যুরিজম, এলএনজি টার্মিনাল, লিকুইড বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণসহ অন্যান্য সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলবে বলে নিশ্চিত করেছেন পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডার মো. জাহাঙ্গীর আলম।

গত শনিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় নির্মিতব্য টার্মিনালে ২০২৫ সালের মধ্যে পায়রা পোর্ট সরাসরি পণ্য খালাসের কাজ শুরু করবে। সেই লক্ষ্যে তিনটি পরামর্শক কম্পানি মাস্টার প্ল্যান অনুসারে মূল বন্দরের কাজ শুরু করেছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের জন্য ওয়াটার এবং ল্যান্ডে মোট ২২০ একর জমি বেলজিয়ামের জান-দে-নুল কম্পানিকে বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। অন্যদিকে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ সরকারি পিপিপি অনুসারে ডিজাইন, মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের টেন্ডার কল করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের বাকি কাজ যৌথ সার্ভের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া নিশানবাড়িয়ায় একটি কোল টার্মিনালসহ আরো একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৪৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ কোল টার্মিনাল নির্মাণ শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া বহুমুখী কাজে ব্যবহারের জন্য এক দশমিক দুই কিমি দীর্ঘ একটি টার্মিনাল নির্মিত হবে। এটি চান্দুপাড়ায় নির্মিত হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, বর্তমান নাব্যতার চ্যানেলে ২০-২৫ হাজার টন পণ্যবাহী জার্মান শিপিং কম্পানির জাহাজ পণ্য খালাসের কাজ চালাবে। পরে ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের পরে ৪০-৫০ হাজার মেট্রিক টন পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য খালাসের কাজ শুরু করবে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার হাজার পরিবারের পুনর্বাসন ছাড়াও তাদের কর্মদক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৬ সালে সীমিত পরিসরে বন্দরের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। চেয়ারম্যান জানান, এ পর্যন্ত বন্দরে ৩২টি পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে সরকারের প্রায় ৪৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এ ছাড়া বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। ২০২৫ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ গভীর সমুদ্রবন্দর হতে যাচ্ছে পায়রা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা