kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ

সবজি ভাণ্ডারেই দামে ঊর্ধ্বগতি

ঝড়-বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফড়িয়া, পাইকার, আড়তদাররা এই সুযোগে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে

ফখরে আলম, যশোর   

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সবজি ভাণ্ডারেই দামে ঊর্ধ্বগতি

যশোরে সবজির দামের ঊর্ধ্বগতিতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। এ কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাকাল হতে হচ্ছে। ফড়িয়া, পাইকার, আড়তদাররা এই সুযোগে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যশোরে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। যে পরিমাণ সবজি এই জেলায় উৎপাদিত হয় তার অর্ধেকেরও বেশি সবজি উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু এই জেলার হাট-বাজারে সবজির গায়ে হাতই দেওয়া যাচ্ছে না। সরেজমিন যশোরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড বাজার, রেলস্টেশন বাজার, পুলেরহাট, চাঁচড়া মোড় বাজারে খবর নিয়ে জানা যায়, গুটি উচ্ছে (ছোট করলা) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা, সজিনা প্রতি কেজি ২০০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য সবজিও ৫০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাঁচড়া বর্মণপাড়া গ্রামের অরুণ বর্মণ বলেন, ‘আমি সামান্য বেতনে চাকরি করি। উচ্চমূল্যের জন্য সবজি কিনতে পারছি না। ৩০ টাকা কেজি কাঁচকলা কিনে খাচ্ছি।’

ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলম বলেন, ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ায় সবজির দাম বেড়ে গেছে। এখন ফণীর কারণেও সবিজ ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। বাজারে এর প্রভাবও পড়বে। মহেশপুর এলাকার ফড়িয়া (পাইকারি ব্যবসায়ী) বিল্লাল হোসেন ও শফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকা থেকে উচ্ছে, বরবটি, বেগুনের চালান যশোরে যায়। কিন্তু মাঠে এখন কোনো সবজিই নেই। আবহাওয়ার কারণে মাঠে এখন সবজি নেই। দুই দফা ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দাম বেড়ে গেছে।

যশোর সদর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘যশোরে প্রচুর পরিমাণ সবজি উৎপাদিত হয়। যশোর থেকে উদ্বৃত্ত সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হওয়ায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে। যার ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি নিজেও ৬০ টাকা কেজি বেগুন কিনেছি।’

এদিকে সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংসের দামও বেড়েছে। দেশি মাছ বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, রুই মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা থেকে ৫২০ টাকা।

মন্তব্য