kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রমজানেই বিক্রি হয় ৪০০ কোটি টাকার ছোলা

পাইকারিতে না বাড়লেও খুচরায় শঙ্কা

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাইকারিতে না বাড়লেও খুচরায় শঙ্কা

দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখছেন না আড়তদাররা। ফাইল ছবি

রমজান ঘিরে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়েনি। শবেবরাতের পর থেকে পাইকারিতে পুরোদমে বেচাকেনা চলছে ছোলাসহ অন্য ভোগ্য পণ্য; চলবে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত। এই ধারাবাহিকতা থাকলে আগামী সপ্তাহেও দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখছেন না আড়তদার ও আমদানিকারকরা। এর মূল কারণ হচ্ছে, গত বছর চাহিদার অতিরিক্ত আমদানীকৃত ছোলা অবিক্রীত রয়ে গেছে; সেগুলো এবার আগেভাগেই বাজারে আসছে।

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে এ বছরও চাহিদার চেয়ে বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে আর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছোলা আমাদনিকারকের গুদাম হয়ে বাজারে পৌঁছেছে। সরবরাহে ঘাটতি না থাকায় বাজারে প্রচুর ছোলা, তাই পাইকারিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান আলম বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজার যেভাবে চলবে তাতে অন্তত পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়ার কোনো সুযোগ দেখছি না। কারণ বেচাকেনার মূল সপ্তাহ তো পার করে এসেছি; দাম তো বাড়েনি। রমজানের শুরুর দিন পর্যন্ত এই বেচাকেনা চলবে। এরপর দাম কমবে। তবে খুচরায় তদারকি করলে ভোক্তারা এর সুফল পাবে।

আড়তাররা বলছেন, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩৮ কেজি) দুই হাজার ৪৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৬৫০ টাকায় অর্থাৎ কেজি ৬৫ টাকা থেকে ৭১ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শনিবারও প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে। আর মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি দুই হাজার ৪৮০ টাকায় অর্থাৎ কেজি প্রায় ৬৭ টাকা।

ছোলার দাম বাড়ার সুযোগ নেই মন্তব্য করে আমদানিকারক পায়েল ট্রেডার্সের কর্ণধার আশুতোষ মহাজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রমজানের এক দিন পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে, এরপর দেখবেন বাজার একেবারে কমে গেছে। কারণ বাজারে এত বেশি ছোলা এসেছে, গত বছরের উদ্বৃত্ত ছোলাও ছিল, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দামও কমছে। আর সরবরাহও একেবারে স্বাভাবিক। তাহলে কী কারণে দাম বাড়বে? ’

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি টন ছোলার সর্বনিম্ন দাম ৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে বিগত বছরে আমদানীকৃত ছোলার বাজারমূল্য দাঁড়ায় এক হাজার কোটি টাকার বেশি। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৬ থেকে ৮০ টাকায়; সে হিসাবে এক বছরে ছোলার খুচরা বাজারমূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, পাইকারি বাজারে এক কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে মান ও দেশভেদে ৬৪ থেকে ৭১ টাকায়। কিন্তু খুচরা বাজারে সেই ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৬ থেকে ৮০ টাকায়। পাইকারির সঙ্গে ছোলার এত বেশি ব্যবধানের কারণে ভোক্তারা ন্যায্য দাম পায় না। তাই খুচরা বাজারে তদারকির দাবি করেছেন আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কাজীর দেউড়ি খুচরা বাজারে আল মদিনা স্টোরের কর্ণধার নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সবচেয়ে ভালো মানের ছোলা কিনেছি মণ দুই হাজার ৫৮০ টাকায়। সে হিসাবে এক কেজি ছোলা কিনতে হয়েছে প্রায় ৭০ টাকায়; এর সঙ্গে ধোলাই, পরিবহন খরচ, শ্রমিক খরচ মিলিয়ে আমরা ৭৮ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। আর অস্ট্রেলিয়ার ছোলা কিনেছি মণ দুই হাজার ৭০০ টাকায়। আমাদেরও মনে হয় না রমজানে দাম এর চেয়ে খুব বেশি হবে। দাম কমে গেলে বিপদে পড়তে হবে শঙ্কায় বেশি পরিমাণ ছোলা না কিনে কয়েক বস্তা করে কিনে রাখছি। ’

চট্টগ্রাম কাস্টমসের হিসাবে, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট ছোলা আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৬৩ হাজার টন। আর চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার টন। অর্থবছরের আরো তিন মাস আছে; সে হিসাবে ছোলা আমদানি বিগত বছরের চেয়ে বাড়বে।

নিয়মানুযায়ী ছোলাভর্তি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর সেগুলো শুল্কায়ন করা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ছোলার শুল্কায়ন ও শুল্ক নির্ধারণ করে দেয়। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানীকৃত এক লাখ ১২ হাজার টন ছোলার শুল্কায়িত মূল্য হচ্ছে ৬২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রতি টন ছোলা শুল্কায়ন হয়েছে ৫৫ হাজার টাকায়। চলতি অর্থবছর যেহেতু শেষ হয়নি তাই বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানীকৃত এক লাখ ৬৩ হাজার টন ছোলার হিসাব কষে দেখা গেছে এর শুল্কায়ন মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ছোলার আমদানি শুল্কায়ন ও বাজারমূল্য হিসাব করে দেখেছি দাম এখন পর্যন্ত সহনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। শুল্কায়ন মূল্য বিবেচনা করলে প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকার বেশি লাভ থাকে না আমদানিকারকের। বাজারদর এ রকম থাকলেই রাজস্ব কমানোর সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে।



সাতদিনের সেরা