kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

উদ্যোক্তা

তিন বন্ধুর স্বপ্নের হর্টিকালচার

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন বন্ধুর স্বপ্নের হর্টিকালচার

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুরে তিন বন্ধু অঞ্জন সাহা, গোপাল দাস, সুমন বণিক মিলে গড়ে তুলেছেন একটি হর্টিকালচার সেন্টার। এর মাধ্যমে তাঁরা সফলতার পথে হাঁটছেন। স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁদের দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পটির নাম এসজিএস অ্যাগ্রো অ্যান্ড হর্টিকালচার। প্রকল্পটিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের বিভিন্ন ফুল ও গাছের বাগান। যার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। তিন বন্ধু ব্যবসায়ী হিসেবে ফুলপুরে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

তাঁরা জানান, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্যই তাঁদের এ উদ্যোগ। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে উদ্যোগের শুরুতে। এ ছাড়া জমি কেনা ও অন্যান্য খাতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ৩০ শতাংশ খালি জায়গায় ভবিষ্যতে গরু, মাছ, ও মুরগির খামার সংযুক্ত করে প্রকল্পের আওতা বাড়ানোর জন্য চিন্তা রয়েছে তাঁদের।

ফুলপুর পৌর শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে প্রায় আড়াই একর (২২৬ শতাংশ) জমির ওপর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জাতের মেহগনি, আকাশি, ইউক্যালিপটাস, আম, লিচু, নারিকেল, সুপারি, সফেদা, তেজপাতা, লটকন, পেঁপে আমড়া, মাল্টা, কমলা, তেঁতুল, গোলাপ, বাগানবিলাস, সূর্যমুখী, গাদা, রজনীগন্ধা, জবা, রঙ্গন, দোপাটিসহ নানা জাতের দেশি-বিদেশি গাছের উন্নত জাতের কলম ও চারা রয়েছে। এখান থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে বনজ, ফলদ, শোভাবর্ধন জাতের ফুল, ফল, ঔষধি ও শোভাবর্ধন জাতের চারা।

এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, বিভিন্ন পত্রিকায় ও চ্যানেল আইয়ে প্রতিবেদন দেখে তাঁরা কৃষি সম্পর্কিত উদ্যোগ নিতে উৎসাহী হন। একপর্যায়ে তাঁরা একসঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেন বৃক্ষরোপণ ও শোভাবর্ধনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবেন। এর ফলে পরিবেশের উন্নতিও হবে।

তাঁদের মতে, গ্রামকে স্মার্ট ভিলেজে রূপান্তরিত করতে হলে উন্নত জাতের ফুল, ফল ও শোভাবর্ধন গাছের চারার প্রয়োজন। এ জন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ ও উৎপাদন করে ন্যায্য মূল্যে গ্রামের মানুষের মাঝে বিতরণ করবেন। আবার মুনাফা থেকে কিছু অংশ ব্যয় করবেন প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে।

উদ্যোক্তারা প্রথম পর্যায়ে শুধু ফুল ও চারা বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা মুনাফা করেছেন। বর্তমানে তাঁদের হাতে আরো অর্ডার রয়েছে। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, কোনো সরকারি সাহায্য চাই না, তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন সুদৃষ্টি দিলে আমরা আরো উৎসাহী হব।

এরই মধ্যে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা সরেজমিনে উদ্যোগটি দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফুলপুরসহ বিভিন্ন দূর-দূরান্তের বৃক্ষপ্রেমীকরা তাঁদের বাগান থেকে উন্নত জাতের চারা কিনে বাড়ির খালি জায়গায় বুনছে এবং বাড়ির আঙিনায় ফুলের টব সাজিয়ে পরিবারের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।

 

মন্তব্য