kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

পেট্রাপোলে পণ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত স্থগিত

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেট্রাপোলে পণ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত স্থগিত

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের প্রবেশপথ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেনাপোল বন্দরের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোলে পণ্য চালান খালাস হওয়ার আগে শতভাগ পরীক্ষার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তা আপাতত স্থগিত করেছে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সেখানে পর্যাপ্ত জনবল, স্থান ও পণ্য ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পেট্রাপোল কাস্টমস এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীরা জানায়, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় এমনিতেই একটি পণ্য চালান ভারত থেকে আমদানি করতে পাঁচ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পেট্রাপোল বন্দরে আবার প্রতিটি পণ্য চালান আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষা করতে গেলে ভোগান্তি আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর ফলে পণ্য খালাস একদিকে যেমন কঠিন হয়ে পড়ে তেমনি আমদানি খরচও বেড়ে যায়।

ওপারের একটি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেখানকার আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, আমদানি-রপ্তানি পণ্য চালান খালাসের আগে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পরীক্ষা করতে হবে। যার স্মারক নম্বর ১১(২৬)১১৩/পিটিপিএল-আরডি/আইএমপি/এমআইএসসি/২০১৮-১৯/২৭২৫। এতে পরের দিনে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য চালান প্রবেশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে টনক নড়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের। পরে ২০ এপ্রিল বিকেলে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত শতভাগ পরীক্ষণের নির্দেশনা স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর ২১ এপ্রিল সকাল থেকে আগের নিয়মে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শতভাগ পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত অস্থায়ী। সেটা যেকোনো সময় আবার কার্যকর হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশের মতো পণ্য রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পেট্রাপোল বন্দরে নেই। ফলে এমনিতেই সেখানে সারা বছর পণ্যজট লেগেই থাকে। মালামাল আমদানি-রপ্তানিতে মারাত্মক সমস্যা হয়। এখানকার ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা শতভাগ পণ্য পরীক্ষার বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হলেও আপাতত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে পূর্বের নিয়মে পণ্য খালাস সচল রেখেছেন।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আকরাম হোসেন জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জেনেছি পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আপাতত আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শতভাগ পরীক্ষণ স্থগিত করেছে। আগের নিয়মেই পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। তবে বিষয়টি ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত সমাধান করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

মন্তব্য