kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈঠক

লেনদেনের প্রথম দিনে সার্কিট ব্রেকার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেনদেনের প্রথম দিনে সার্কিট ব্রেকার প্রস্তাব

গতকাল ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেমের নেতৃত্বে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈঠক হয়

আস্থাহীনতা ও তারল্য সংকটে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন চলছে। এই দরপতন ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। এতে পুঁজিবাজার গতিশীল করতে বিদেশি বিনিয়োগ ও বহুজাতিক কম্পানি আনা, আইপিও কোটা বাতিল এবং নতুন কম্পানির শেয়ার লেনদেনে প্রথম দিন থেকে সার্কিট ব্রেকার আরোপ এবং স্পন্সর বা ডিরেক্টরদের শেয়ারে লক-ইন রাখা ও না রাখার বিষয়েও প্রস্তাব করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সোমবার ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেমের নেতৃত্বে পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন এবং এমডি কে এ এম মাজেদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এবং মার্চেন্ট ব্যাংক ও শীর্ষস্থানীয় ব্রোকার হাউসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারের পতনে তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতা কাজ করছে বলে পর্ষদে আলোচনা হয়। তারল্য সংকটের কারণ হিসেবে প্লেসমেন্টে বাণিজ্য ও স্থায়ী আমানতে (এফডিআর) সুদের হার বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) দুর্বল কম্পানি ও নিরীক্ষকের দুর্বলতাকেও দায়ী করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ব্রোকারেজ হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তারল্য সংকটে মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে কোনো টাকা না থাকায় শেয়ার কিনতে পারছেন না। লক-ইন ফ্রি হওয়ায় উদ্যোক্তা-পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের শেয়ারের লক-ইন ফ্রি ও তিন বছর রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্প্রতি বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। মূলত আস্থাহীনতা ও তারল্য সংকটের কারণেই বাজার ক্রমাগত নিম্নমুখী। এ ছাড়া উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারে লক-ইন ফ্রি হওয়ায় বিক্রি বেশি।’

তিনি বলেন, নতুন কম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সার্কিট ব্রেকার না থাকায় শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। এটা রোধ করতে প্রথম দিন থেকেই সার্কিট ব্রেকার আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে বৈঠকের বিষয়ে ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সভায় প্রতিনিধিরা ব্রোকার হাউসের সার্ভিস বুথ অনুমোদন, স্ক্রিপ্ট নিটিং সিস্টেম চালু, করপোরেট ডিসক্লোজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা টিশূন্য করা, নীতিনির্ধারকদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হ্রাস, মিউচুয়াল ফান্ডকে আরো সক্রিয় করা, প্লেসমেন্ট শেয়ারে নীতিমালা, বহুজাতিক ও মৌলভিত্তিক কম্পানিকে বাজারে আনা, তালিকাভুক্ত কম্পানির লভ্যাংশে ধারাবাহিকতা রক্ষা, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা, আইপিওর কোটা বাতিল, আইসিবির মতো আরো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের গাইডলাইন তৈরি করাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা