kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যাংকিং সেবায় দুই কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংকিং সেবায় দুই কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ

নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জমা ১৭৯৩ কোটি টাকা

নামমাত্র টাকায় হিসাব খোলা ও পরিচালনায় কোনো ধরনের চার্জ না থাকায় ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আসছে সমাজের পিছিয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষজন। ২০১৮ সাল শেষে সরকারি আটটিসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে তাদের হিসাব খোলা হয়েছে এক কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার ৭৪৮টি। এসব হিসাবের বিপরীতে পুঞ্জীভূত জমার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এক বছর আগে ২০১৭ সালে তাদের হিসাব সংখ্যা ছিল এক কোটি ৭৪ লাখ ৩৩ হাজার ২১৭টি। আর জমা ছিল এক হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। ফলে গত এক বছরে হিসাব সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ। এ ছাড়া জমার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩৮৭ কোটি টাকা। এ সময় সর্বোচ্চ হিসাব খোলা হয়েছে কৃষকের—৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৭টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যারা একসময় ব্যাংক লেনদেনের কথা ভাবতেই পারত না, সেসব দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষ এখন ব্যাংকিং কার্যক্রমে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচির আওতায় তাদের ব্যাংকিং সেবায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থায় হিসাব খোলার কার্যক্রম। ন্যূনতম ১০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকা জমা দিয়ে এসব হিসাব খোলার সুযোগ মিলছে। সর্বনিম্ন জমার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এসব হিসাবে জমা অর্থের ওপর মুনাফার হার অন্য হিসাবের চেয়ে বেশি দিতে বলা হয়েছে। ফলে এসব হিসাব খোলার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। জানা যায়, সমাজের সর্বস্তরে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময় সার্কুলার জারির মাধ্যমে দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের হিসাব খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভিন্ন খাতের মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকারি আটটি ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত কৃষকের হিসাব খোলা হয়েছে ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৭টি। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৩টি, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি খাতে ২৬ লাখ আট হাজার ৪৮৪টি, মুক্তিযোদ্ধা খাতে দুই লাখ আট হাজার ৭৩১টি, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শ্রমিকের ১০ হাজার ৫২টি, তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের হিসাব দুই লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৪টি, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগীর ৪৭ হাজার ৫৫০টি, এলএসবিপিসি প্রকল্পভুক্ত কারিগরের চার হাজার ২৯৩টি, ক্ষুদ্র জীবন বীমা পলিসি গ্রহীতার এক লাখ ১৬ হাজার ৮১৭টি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এক লাখ ৯৩ হাজার ৮৬৩টি, দুস্থ পুনর্বাসনের অনুদানভোগীদের এক হাজার ৪২৩টি, ফুড ও লাইভলিহুড সিকিউরিটি প্রকল্পের ৬২ হাজার ৯৩৭টি এবং অন্যান্য খাতে পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৮২২টি হিসাব খোলা হয়েছে। এসব হিসাবের মধ্যে বেশির ভাগই খোলা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকে।

১০ টাকার হিসাব খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয় কৃষকদের মাধ্যমে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৭ জন কৃষক এই হিসাবে জমা রেখেছে ৩০৩ কোটি টাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাবে জমা রয়েছে ২৫৪ কোটি টাকা। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা জমা রেখেছে ১৩৪ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধীরা ২৫ কোটি টাকা জমা করেছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের জমা ১১২ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র জীবন বীমা কর্মসূচি গ্রহীতারা ১৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, এলএসবিপিসি কারিগররা দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ৬৮ লাখ টাকা জমা রেখেছে।

বাজেটের মাধ্যমে সরকার বিধবা, বয়স্ক মানুষ, দরিদ্র মা ইত্যাদি শ্রেণির মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনেছে। তাদের প্রদত্ত ভাতা ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। এই শ্রেণির মানুষের ব্যাংকে সঞ্চয় সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৫৩৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা