kalerkantho

এবার ভুটান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও নৌবাণিজ্য

আরিফুর রহমান   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার ভুটান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও নৌবাণিজ্য

এবার দক্ষিণ এশিয়ার আরো দুটি দেশ ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও জাহাজ চলাচলের দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশের মতো ভুটান ও শ্রীলঙ্কাও বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের সঙ্গে আগেই সমঝোতা স্মারক করা আছে। এখন অপেক্ষা স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) সই। সব ঠিক থাকলে এ বছরেই দুই দেশের সঙ্গে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। অবশ্য ভারতের সঙ্গে প্রথমে যেভাবে যাত্রীবাহী জাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই দুই দেশের সঙ্গে প্রথমে চলবে কার্গো জাহাজ। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরে যাত্রীবাহী জাহাজ ছাড়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কার্গো জাহাজ চালু করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন। ওই দুই দেশের ব্যবসায়ীদেরও জাহাজ চালুর বিষয়ে আগ্রহ আছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দুই দেশের সঙ্গে কার্গো জাহাজ চালু হলে পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হবে। পণ্য পরিবহনে খরচ কমে যাবে। একই সঙ্গে সময়ও বাঁচবে।

নৌসচিব আবদুস সামাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। দুই দেশের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এখন এসওপি সই হবে। আশা করছি, এ বছরই জাহাজ চলাচল চালু করা সম্ভব হবে।’

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাজ চলাচলে রুট নির্ধারণে আজ ভুটানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে। প্রতিনিধিদলে সে দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রয়েছে। বিআইডাব্লিউটিসির সহযোগিতায় আগামী ৩১ মার্চ প্রতিনিধিদল রুট নির্ধারণে নামবে। এর আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকেও বসবে। দুই দেশের সম্মতিতেই এসওপি সই হবে। দেশটি বাংলাদেশের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করতে চায়। এতে করে সে দেশের ব্যবসায়ীদের খরচ কমে আসবে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও নৌ প্রটোকল চুক্তির বিষয়ে চিঠি চালাচালি চলছে দুই দেশের মধ্যে। এরই মধ্যে একবার খসড়া পাঠানো হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তাতে কিছু বিষয়ে দেশটি তাদের মতামত জানিয়েছে। ওই সব মতামত সংযোজন করে শিগগিরই ওই খসড়া আবার পাঠানো হবে। দুই দেশ সম্মত হলে এ বছরই এসওপি সই হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নৌ প্রটোকল নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয় চার বছর আগে ২০১৫ সালে। এরও তিন বছর পর গত বছর ২৫ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে এসওপি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। আগামী ২৯ মার্চ ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এমভি মধুমতী। ভারতের মধ্যে অন্য দুই দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের নৌ প্রটোকল নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়ে আছে ২০১৬ সালে। অবশ্য এখনো এসওপি সই হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দুই দেশের সঙ্গে এসওপিতে সই করা চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভুটান সফরে যান, তখন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা প্রথমে কার্গো জাহাজ চালু করব। পরবর্তী সময়ে যদি যাত্রীরা আগ্রহ দেখায়, তখন যাত্রীবাহী জাহাজ চালু হবে। তবে এই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ এত লম্বা সময়ে কেউ জাহাজে করে ওই দুই দেশে যেতে চাইবে না। তার ওপর বঙ্গোপসাগর। ভারতে জাহাজে করে একজন যাত্রী যেতে যতটা আগ্রহ দেখাবে, অন্য দুই দেশের ক্ষেত্রে তা ক্ষীণ। তিনি বলেন, যদি দুই দেশের সঙ্গে কার্গো জাহাজ চালু করা সম্ভব হয়, তাহলে সময় ও খরচ দুটিই কমে আসবে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যত ধরনের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংযোজন ঘটবে, ততই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। কারণ আমরা চাই, আমাদের পণ্যটি যাতে দ্রুত যেতে পারে। এক দিন আগে যদি আমার একটি পণ্য পৌঁছে যায়, সেটি আমাদের জন্য লাভজনক। শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে যদি আমাদের কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হয়, ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে ঠিকই, তবে এখানে ভারতের অবস্থানও দেখতে হবে। কারণ ভুটানে কোনো পণ্য রপ্তানির আগে অবশ্যই ভারত হয়ে যেতে হবে। তাই তাদের মনোভাব জানাও জরুরি।’

মন্তব্য