kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

দিনে দিনেই ভিড়ছে জাহাজ

জাহাজজট নেই চট্টগ্রাম বন্দরে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাহাজজট নেই চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজ পৌঁছে দিনে দিনেই বন্দর জেটিতে ভিড়ছে। গত বছরও একটি কনটেইনার জাহাজ পাঁচ থেকে সাত দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়তে পারত; এখন বহির্নোঙরে অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভেড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমানে বহির্নোঙরে পণ্যভর্তি কোনো কনটেইনার জাহাজ অপেক্ষায় নেই, নেই জেটিতে ঢোকার অপেক্ষমাণ খোলা জাহাজও। জাহাজ না থাকায় বন্দরের ভেতর ফাঁকা থাকছে বেশ কয়েকটি জেটি; গতকালও ফাঁকা ছিল অন্তত দুটি জেটি।

জাহাজজট না থাকায় বন্দর নিয়ে ব্যবহারকারীরা আপাতত স্বস্তিতে আছেন। বন্দর চেয়ারম্যান ও পরিবহন বিভাগের বিশেষ কৌশল এবং তদারকির কারণেই এই সুফল বলে মন্তব্য তাঁদের। আগামী রমজান ও বাজেটের সময় এই সুফল ধরে রাখার দাবি ব্যবহারকারীদের।

মূলত তিনটি কারণে এই সুফল মিলেছে বলে মনে করে বন্দরের পরিবহন বিভাগ। সেগুলো হচ্ছে নতুন যোগ হওয়া ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ এর সঠিক ব্যবহার, পণ্যভর্তি বড় আকারের জাহাজ আসা বেড়ে যাওয়া এবং তৃতীয় হচ্ছে বড় জাহাজ ভেড়ার জন্য আরো দুটি জেটি উপযোগী হওয়া।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, আমদানি বাড়ার পরও জাহাজের জট কমেছে, ইদানীং কয়েকটি জেটিও নিয়মিত ফাঁকা থাকছে।

তিনি বলেন, বন্দরে নতুন যন্ত্রপাতি যোগ হওয়া, জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া ও কনটেইনার রাখার ওভার ফ্লো ইয়ার্ড চালু করা এবং বন্দরের ১০ ও ১১ নম্বর জেটিতে আগের চেয়ে বড় আকারের জাহাজ ভেড়ার সুযোগ তৈরি করা আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল। বন্দর ব্যবহারকারীদের সহায়তায় সেটি সফলভাবে করতে পেরেছি। ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পণ্য নিয়ে জাহাজ ভাড়া করে আনেন। এর বেশি বসে থাকলে জাহাজের আকারভেদে প্রতিদিনের জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার ইউএস ডলার মাসুল গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। এই মাসুল পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হয়ে দাম বেড়ে যায়। প্রতিবছরই এই অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়। আর বিদেশি শিপিং কম্পানিগুলো দেশে জাহাজ ভাড়া নিতে গড়িমসি করে।

শীর্ষ শিপিং লাইন গ্যালাক্সি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট বিদেশিদের মধ্যে মাইন্ডসেট হয়ে গিয়েছিল। বন্দরের চমৎকার এই উন্নতি সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাবে নিশ্চিত; তবে সেটা রাতারাতি হবে না। জাহাজ মালিকদের পরবর্তী পরিকল্পনায় আমরা এর সুফল পাব। এ জন্য বন্দরে কনটেইনার রাখার স্থান বাড়াতে হবে, স্টেকহোল্ডারদেরও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজটের কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে আগেভাগেই ভোগ্য পণ্য আমদানি করে মজুদ করতেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত সময়ে বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে না পেরে ২০১৭ সালেও অনেক ব্যবসায়ী রমজান মৌসুম ধরতে পারেননি। এবারও আগেভাগে রমজানের পণ্য আসতে শুরু করেছে। তবে এবার রমজানে তেমনটি আশা করছেন না বন্দর কর্তৃপক্ষ। এনামুল করিম বলছেন, রমজানের পণ্য এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে, কিন্তু জটে পড়তে হয়নি। বাজেটেও এমন কৌশল আমরা অব্যাহত রাখব। ফলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

বড় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বাশার চৌধুরী বলছেন, জাহাজজট না থাকা আমাদের জন্য অবশ্যই সুখের খবর। বন্দর চেয়ারম্যান ও পরিবহন বিভাগের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগামী রমজান ও বাজেটেও এই ধারাবাহিকতা আমরা চাই। এ ছাড়া খোলা পণ্য খালাসের জন্য বিভিন্ন লাইটার জেটিগুলোতে রমজানের পণ্য খালাসে জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার ওঠানামার ৫৮ শতাংশ ওঠানামা হয় এনসিটি ও সিসিটিতে। দুটি পরিচালনা করে সাইফ পাওয়ারটেক। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন তানভীর হোসাইন বলেন, এনসিটি ৩ ও ৪ নম্বর জেটিতে মোট ছয়টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পণ্য ওঠানামা হচ্ছে। বড় শিপিং লাইন কন্টিনেন্টাল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, ধাপে ধাপে অনেক অর্জন হয়েছে বন্দরের, এটি আরেকটি। এর ফলে বিদেশি অপারেটররা চট্টগ্রাম বন্দর রুটে জাহাজ ভাড়া দিতে বা চালাতে আরো বেশি আগ্রহী হবেন। বহির্নোঙরে অলস বসে থাকার মাসুল গুনতে হবে না। আমরা চাই এটি অব্যাহত থাকুক।

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, বন্দরের এই নির্বিঘ্ন অবস্থা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা