kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আধিপত্য কমছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আধিপত্য কমছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের

বিআইবিএমে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় অতিথিরা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অর্থায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আধিপত্য কমছে। ২০১১ সালে এ খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮ শতাংশ রপ্তানি সম্পন্ন হলেও তা কমতে কমতে ২০১৮ সালে হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। তবে এ সময় বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের আধিপত্য বেড়েছে। ২০১১ সালে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি হয় ৭১ শতাংশ; যা ২০১৮ সালে বেড়ে হয়েছে ৭৪ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে ১৮ শতাংশ; যা ২০১১ সালে ছিল ১১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসে ‘ট্রেড সার্ভিসেস অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। বিআইবিএমের কর্মশালাটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট অফিস থেকে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারিকুজ্জামানসহ সিলেট শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কর্মশালার উদ্বোধন করে এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ট্রেড সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেকটি দেশে ট্রেড সার্ভিসের ক্ষেত্রে আলাদা রেগুলেশন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৮ সালে নতুন গাইডলাইন তৈরি করেছে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংকিং খাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে, এ জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। এর সঙ্গে ব্যাংকের অর্থায়ন জড়িত। সুতরাং ব্যাংককর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ জোরারোপ করতে হবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা পণ্য মূল্য বেশি দেখাতে না পারে সে জন্য ব্যাংকারদের সতর্ক থাকতে হবে। একটি ডাটা বেইস করতে পারলে কোনো ব্যবসায়ী এ ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ পাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, ব্যাংকাররা সতর্ক থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোথায় সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যাংকারদের বড় ঋণ এবং বড় এলসি খোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রাহক সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে অর্থায়ন করা ঠিক নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারিকুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেমন বেড়েছে, একে ঘিরে জটিলতা এবং আর্থিক অপরাধও বাড়ছে, যা এখন ব্যাংকিং খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাংককর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা