kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঠেকাতে পারেনি জিএসপি

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৬.৬৫%

এম সায়েম টিপু   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঠেকাতে পারেনি জিএসপি

রানা প্লাজা দুর্ঘটনাপরবর্তী নানা প্রচারণার পরও দেশের পোশাক খাত নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একক বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫৪০ কোটি ডলার। এই আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে এই আয় ছিল ৫০৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব দ্য টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটিএক্সএ) মার্চের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ওই দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক কারখানার আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (অ্যালায়েন্স) কর্তৃপক্ষ কারখানার নিরাপত্তা পরিদর্শন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। ফলে আমেরিকান ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে, পোশাক খাতের রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। এ ছাড়া রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধেরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে জানান তাঁরা।

ওটিএক্সএর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে মোট পণ্য রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪.৫১ শতাংশ। রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫০৩ কোটি ডলার। ২০১৬ সালে আয় ছিল ৫৩০ কোটি ডলার।

এদিকে চীনের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং বিশ্ববাজারের অংশ বাড়াতে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে উদ্যোক্তারা। তারা জানায়, পোশাক কারখানাগুলোর সংস্কারকাজের অগ্রগতি ও বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাণিজ্য বাড়লেও এই বাড়তি সুবিধা কাজে লাগানো যাচ্ছে না সক্ষমতার অভাবে। তাদের মতে, পণ্যবৈচিত্র্য না থাকায় আমেরিকান বাজারে পোশাক রপ্তানির পুরো সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে চীনের উদ্যোক্তারা তাদের নতুন গন্তব্য হিসেবেও বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। এর ফলেও পোশাক রপ্তানির কার্যাদেশ নিয়মিত বাড়ছে। এ ছাড়া বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্রেতারা তাই বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে। তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের নীতি সহায়তা জরুরি।

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমেরিকান বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে তেমন উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ এখনো নেই। কিছু প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষ হয়ে কাজ করলেও এটা খুবই সামান্য। আমাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ইউটিলিটি বিল বাড়ালেই হবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কমলে কমাতেও হবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আনতে হলে অবকাঠামো উন্নয়নসহ পণ্য বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধের এই সুযোগ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাচ্ছে কম্বোডিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তান। কেননা তারা তাদের পণ্য বহুমুখী করেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম্বোডিয়ার রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২.১৯ শতাংশ; ২৪০ কোটি ডলার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা