kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

অর্জিত হয়নি অনেক সূচক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্জিত হয়নি অনেক সূচক

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন সূচকে সাফল্য থাকলেও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি সরকার। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করে সরকার। পরিকল্পনার শেষ বছরে এসে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ শতাংশ। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৬.৬ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, অনেক বেশি এবং দ্রুত উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, যেটি বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না। তার পরও যে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, সেটি বিশ্বের সমমানের অন্য দেশগুলোর মধ্যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

এ ছাড়া দেশের অর্থনীতি অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আয় বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল্যায়ন সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে পরিকল্পনাটির সমাপ্তি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অবহিতকরণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এতে বক্তব্য দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। যেমন ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি চার লাখ। এর বিপরীতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৯ লাখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শামসুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে বিশ্বের যেসব দেশ সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এই পাঁচ বছরে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৩ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার সন্তোষজনক বলে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এ সময়ে যে হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ছিল, তা সম্ভব হয়নি। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সামষ্টিক অর্থনীতির বেশকিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আমদানি ও রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ না হওয়া, জাতীয় সঞ্চয় মোট জিডিপির মাত্র ২৯ শতাংশে থাকা, কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির পরিবর্তে উল্টো কমে যাওয়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দরিদ্র্য মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রমে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে না পারা, সহজে ব্যবসা করার সূচকে সন্তোষজনক অবস্থান না থাকা (১৯০টি দেশের মধ্যে ১৭৭তম অবস্থান) এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে থাকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে মান বাড়াতে হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।

এম এম মান্নান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। দেশে বৈষম্য কেন বাড়ছে, তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করে দেখতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা