kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ

► নতুন ব্যাংকের সমালোচনা
► সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে টেনে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি জানতে চাওয়া হয়েছে

জিয়াদুল ইসলাম   

২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ

ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশেষভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়ে অসন্তুষ্ট দাতা সংস্থাটি। এ ছাড়া নতুন ব্যাংকের লাইন্সেস নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি সম্প্রতি সময়ে ব্যাংকিং খাতে নেওয়া বিভিন্ন নীতি সংস্কারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের বিশেষ পুনঃ তফসিল নীতিমালা, ঋণ শ্রেণীকরণ ও অবলোপন নীতিমালা, ব্যাসেল-৩ আওতায় ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ, ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগ ও সুশাসনে ঘাটতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পারফরম্যান্স ও করের টাকায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণ হচ্ছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে টেনে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কী ধরনের পলিসি রয়েছে সেটাও জানতে চেয়েছে দাতা সংস্থাটি। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছে। গতকাল বুধবার সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভিন্ন ভিন্ন বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। এশিয়া এবং প্যাসিফিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাইসাকু কিহারার (ডিকে) নেতৃত্বে সংস্থার ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

প্রতিনিধিদলটি সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ১১টায় বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ওই বৈঠকে চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, ব্যাংকিং রিফর্ম উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক মো. মাসুম কামাল ভুঁইয়া, মো. রবিউল হাসান, মো. শাহ ্অলম, এ কে এম ফজলুর রহমান, মো. নাজিম উদ্দীন, মহাব্যবস্থাপক এ কে এম আমজাদ হোসেন, মো. রেজাউল ইসলাম, মো. মেসবাহুল হক, মো. কবির আহমেদ, মো. আবুল বশার ও খোন্দকার মোরশেদ মিল্লাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। একই বিষয় নিয়ে এ দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, খেলাপি কমাতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, মূলধন পর্যাপ্ততার হার, ব্যাংকের মুনাফা, সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন নীতি সংস্কার যেমন-খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিলের বিশেষ নীতিমালা, ঋণ শ্রেণীকরণ নীতিমালা ও অবলোপন নীতিমালা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং এটা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নীতিমালা আছে কি না সে বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যুতেও আইএমএফের সমালোচনার মুখে পড়েন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বৈঠকে খেলাপি ঋণ ইস্যুতে আইএমএফের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ হ্রাসে সম্প্রতি দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুজন নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি বেসরকারি ব্যাংকের জন্য এবং অপরটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের জন্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১১.৮৭ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২.২০ শতাংশ। বিশেষায়িত খাতের দুই ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে চার হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ১৯.৪৬ শতাংশ।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত বৈঠকের অংশ এটি। তবে বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে আইএমএফ অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ অন্যতম। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দাতা সংস্থাটি।

মন্তব্য