kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

অবশেষে হাতিরঝিল ছাড়ছে বিজিএমইএ

এপ্রিলেই উত্তরায় নতুন ভবনে যাচ্ছে বিজিএমইএ অফিস
লেকসাইট ভিউয়ের সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে নতুন ভবন

এম সায়েম টিপু   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে হাতিরঝিল ছাড়ছে বিজিএমইএ

দুই টাওয়ারসমৃদ্ধ নতুন বহুতল ভবনে যাচ্ছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। এপ্রিল মাসেই রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে উত্তরায় নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হবে তাদের কার্যক্রম। একই মাসের ১২ তারিখের মধ্যে বর্তমান ভবন ছেড়ে দেওয়া হবে এই মর্মে সংগঠনটির পক্ষে আদালতের কাছে মুচলেকা দেওয়া আছে।

সম্প্রতি উত্তরার নির্মাণকৃত নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এরই মধ্যে বেইসমেন্টসহ ভবনের চারতলার কাজ শেষের দিকে। ৪০ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনী হলসহ ১৩ তলা ভবনটি তৈরি হচ্ছে রাজধানীর উত্তরার তৃতীয় পর্বের ১৭ নম্বর সেক্টরে। লেকসাইট ভিউয়ের সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ভবনটি।

এর আগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাতিরঝিলের ভবনকে ‘ক্যান্সার’ আখ্যা দিয়েছেন আদালত। ভেঙে ফেলতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কয়েকবার। তবে পোশাকশিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আদালত বারবার সময় বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ মুচলেকা দিয়ে এক বছরের সময় নেয় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ, যা শেষ হবে আগামী ১২ এপ্রিল।

আদালতের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁরা হাতিরঝিলের এই ভবন ছেড়ে উত্তরার নতুন ভবনে যাচ্ছেন বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, এরই মধ্যে উত্তরার নতুন ভবনের চারতলার কাজ শেষ হয়েছে। যাতায়াতের সড়ক খুব ভালো না হওয়ায় তাঁরা জরুরি উদ্যোগ নিয়ে রাস্তা ঠিক করার পরিকল্পনাও নিয়েছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির জানান, ১২ এপ্রিলের আগেই উত্তরায় যাচ্ছে বিজিএমইএ নতুন অফিস। দুইতলা বেইসমেন্ট নিয়ে ১৩ তলাবিশিষ্ট ভবন। লেকসাইট দৃষ্টিনন্দন দুটি টাওয়ার। বড় আকারের অডিটরিয়াম, এক্সিবিশন সেন্টার, শোরুম থাকছে। ভবনটির তিন দিক থেকে যাতায়াতের সুুবিধা থাকছে। উত্তরা মাসকাট প্লাজা রোড, উত্তরা জসীমউদ্দীন এবং মিরপুর ডিওএইচএস দিয়ে হবে আরো দুটি রাস্তা। ১১০ কাঠা জমির ওপর ভবন তৈরি হবে চার লাখ ৬৪ হাজার বর্গফুটের।

বিজিএমইএর কার্যালয় স্থানান্তর করা হলে ভবন ভেঙে ফেলা হবে কি না, এ বিষয়ে তিনি জানান, বিজিএমইএ এই ভবন ছেড়ে দেওয়ার পর এটি সরকারের সম্পত্তি হবে। তখন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে কী করা হবে। তবে আইনের প্রতি সম্মান রেখে আদালতের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিজিএমইএ কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে নতুন ভবনে।

বিজিএমইএ ভবন নিয়ে আদালতে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই ভবন ভেঙে ফেলতে হবে। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ এই ভবন নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ রয়েছে আদালতের। আর যদি তারা নিজ দায়িত্বে না ভাঙে, তাহলে রাজউককে এই ভবন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া আছে। এই ভবন ভাঙতে রাজউকের কার্যক্রমের সব খরচ বহন করতে হবে বিজিএমইএকে।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই ভবনকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২ জুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আপিলের আবেদন খারিজ করে রায় দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা