kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেহাল যন্ত্রপাতি নিয়ে বিপাকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

কৌশিক দে, খুলনা   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেহাল যন্ত্রপাতি নিয়ে বিপাকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম উৎপাদন করেও খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পণ্যের মজুদ কমাতে পারছে না। দীর্ঘদিনেও মিলগুলোর যন্ত্রাংশ আধুনিকীকরণ না হওয়ায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কমে আসছে। সময়মতো উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় বেহাল যন্ত্রপাতি নিয়ে বিপাকে পড়ছে মিলগুলো। ফলে মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরিসহ পাওনাদি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার শ্রমিকরা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) এখনো উদ্যোগ গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫২-১৯৬৮ সালের মধ্যে খুলনায় ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর (সাবেক পিপলস), দৌলতপুর, স্টার, আলিম ও ইস্টার্ন এবং যশোরে জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিল গড়ে ওঠে। নতুন অবস্থায় এসব পাটকলে পাঁচ হাজার ১১৫টি তাঁত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ অর্ধশত বছরের বেশি সময়ে এসব পাটকলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যন্ত্রপাতিগুলো আধুনিকীকরণ বা বিএমআরই না হওয়ায় স্পিনিং, সফটনার, ব্রেকার ও ফিনিশার কার্ড এবং ড্রয়িং মেশিনের বেহাল অবস্থা ধারণ করেছে। ফলে দিন দিন উৎপাদন কমে আসছে।

খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলে বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৪১ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য। যার মূল্য প্রায় ২৮৪ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস ও সিনথেটিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। মিলের ব্যয়ের তুলনায় আয় না থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরিসহ পাওনাদি বকেয়া পড়ছে। বর্তমানে মিলগুলোতে কর্মরত ১৩ হাজার ২৭১ জন শ্রমিকের ছয় সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে।

পাটকল শ্রমিক মনিরুজ্জামান, মো. আলাউদ্দিন ও আবুল বাশারসহ অন্যরা জানান, ‘বিজেএমসির ভুল পদক্ষেপের কারণে মিলগুলোর বেহাল অবস্থা হয়েছে। তাদের মিল বাঁচানোর কোনো উদ্যোগ নেই। পুরনো যন্ত্রপাতিতে এখন আর মিল চলে না। তার পরও সময়মতো কাঁচা পাট না কেনা, উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে চেষ্টা না করায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। দায় দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের পওর। অথচ শ্রমিকরাই কাজ করে মিলগুলো বাঁচিয়ে রাখছে। আমরা এ অবস্থা থেকে বাঁচতে চাই।’

দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ক্রিসেন্ট জুটমিলের প্রকল্প প্রধান গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। সেই সঙ্গে কাঁচা পাট সংকট ও বিক্রি কমে যাওয়ার কারণেই মূলত পাটকলে উৎপাদন কমে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা