kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন

গুণী গ্রাহক সম্মাননা পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুণী গ্রাহক সম্মাননা পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান

অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. বেলায়েত হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

অগ্রণী ব্যাংকের গুণী গ্রাহক সম্মাননা পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি তাদের ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় এ ব্যবসায়ীকে সম্মাননা প্রদান করল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০১৯ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলামসহ পরিচালনা পর্যদ সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে অগ্রণী ব্যাংকের ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে মোট ১৬ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমাদ, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনের এ এম খুরশিদুল আলম, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী, নোমান গ্রুপের নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের আইয়্যুব হোসেন, বিএসআরএমএর আলী হোসেন আকবর আলী, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, ইস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, এসএমই উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার বেগম, প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল এবং মো. শাহজাহান।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. বেলায়েত হোসেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা আহমেদ আকবর সোবহান। বসুন্ধরা গ্রুপের সফল নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এ ব্যবসায়ী দেশের অর্থনীতিতেও রেখেছেন বড় অবদান। আবাসন দিয়ে শুরু হলেও দিনে দিনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসা সম্প্রসারিত ভোজ্য তেল, কাগজ, সিমেন্ট, এলপি গ্যাস, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বড় বড় খাতগুলোতে। মিডিয়া খাতেও বসুন্ধরা গ্রুপের রয়েছে বিশাল বিনিয়োগ।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দুর্নীতি কম-বেশি সব দেশেই আছে। চাইলেই পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও কমিয়ে আনা যায়।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক আমার নিজ মন্ত্রণালয় সবচেয়ে আগে দুর্নীতিমুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলেছি, দুর্নীতির সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করতে। দুদক সেটা করেছে। এখন আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধের দিকে যাব।’

ব্যাংক খাতেই সর্বপ্রথম দুর্নীতি রোধের প্রক্রিয়া শুরু হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটা সাধারণ ধারণা প্রচলতি আছে। তা হলো, ব্যাংক খাত সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন। এটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা তা জানি না। তবে ব্যাংক খাতে দুর্নীতি রোধে সর্বাগ্রে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে যেসব আধুনিক টুলস প্রচলিত বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে সে হারে করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতে স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়। এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। এ খাতে ভারসাম্য আনতে বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করা হবে। বেসরকারি খাতে সর্বপ্রথম প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বন্ড অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন বা যেসব ঋণ অবলোপন হয়ে গেছে, ওই সব গ্রাহককে দীর্ঘ মেয়াদে নানা সুবিধা দিয়ে অর্থ আদায়ে ‘ইনসলভেন্সি অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ফজলে কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, অগ্রণী ব্যাংক ভালো করছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনেক ভালো ভালো সূচক তুলে ধরে অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ব্যাংকটির উচিত খেলাপি ঋণ কী করে কমিয়ে আনা যায় তার জন্য কাজ করা।

এদিকে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সরাসরি মামলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর। তিনি বলেন, মামলা নয়, আদায়ের উদ্যোগ নিন। আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। কারণ মামলা করলে দীর্ঘসূত্রতার একটা বিষয় আছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে তো মামলা করতেই হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জানান, ২০১৮ সালে ১৮ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে, ২৪ শতাংশ বেশি বিতরণ, ৯৫৮ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা এবং ২০ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা