kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

উদ্যোক্তা

প্রযুক্তির ব্যবহারে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করছে ‘ক্লিন ফোর্স’

শরিফ রনি   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রযুক্তির ব্যবহারে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করছে ‘ক্লিন ফোর্স’

তাসদীখ হাবিব আবির, সহপ্রতিষ্ঠাতা, ক্লিন ফোর্স

প্রতিটি উদ্যোগের শুরু হয় কোনো একটি সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে। পরে সেখান থেকে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়। আবার যিনি সমস্যার সমাধান বের করেন তিনি হয়ে ওঠেন উদ্যোক্তা। তাসদীখ হাবিব আবির এমনই একটি সমস্যার সমাধান বের করে ফেলেছেন। যার মাধ্যমে তিনি ঢাকাবাসীকে নিরাপদ পানি সংরক্ষণে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে পানি সংরক্ষণের রিজার্ভ ও সাপ্লাই ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিচর্যা করলে ৮০ শতাংশ রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঢাকায় যদি ২০ লাখ রেজিস্টার্ড বিল্ডিং থাকে তাহলে আপাত হিসাবেই বলা যায়, ৪০ লাখ পানির ট্যাংক আছে। আমরা বাড়িওয়ালাদের বুঝিয়ে তাঁদের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করছি। আর একবার যিনি কাজ দেখেন তিনি আমাদের নিয়মিত গ্রাহক হয়ে যান।’

এই কাজের জন্য তাসদীখ গড়ে তুলেছেন ক্লিন ফোর্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়ির পানির ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়। শুরু থেকেই সঙ্গে আছেন নিজের মামা মো. আতিকুল ইসলাম। বর্তমানে তাঁদের দলে আছেন ১৭ জন। এর মধ্যে ১৫ জন শ্রমিক ও দুজন এক্সিকিউটিভ আছেন। যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ বাবদ শুরুতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিক বিনিয়োগ ওটাই। তাঁরা নবাবপুর ঘুরে যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেন। প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার একমাত্র মাধ্যম ফেসবুক।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। এ কাজে আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন মূলত বিষয়সংশ্লিষ্ট পড়াশোনার কারণে। তাসদীখ বলেন, ‘গত বছর আমার বাসায় একটা অনুষ্ঠান ছিল। অনেক অতিথি আসে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে দেখলাম পানির কল বন্ধ। পানির ট্যাংকে সমস্যার কারণে সেদিনের অনুষ্ঠানের আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল। তখন মনে হলো পানির ট্যাংকের এই সমস্যার একটা সমাধান দরকার।’

যেই ভাবা সেই কাজ। এর পর জানার চেষ্টা করলেন ঢাকায় কোন পদ্ধতিতে পানি ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়, কারা করে, এটা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত। দেশের বাইরে কোন পদ্ধতিতে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন ঢাকা শহরে পানির ট্যাংক পরিষ্কারে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারেই প্রাধান্য পায় না। সনাতন পদ্ধতিতেই বাড়ির পানির ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়। কাজ করতে গিয়ে তিনি অনেকের পানির ট্যাংকে ইঁদুর, বিড়ালের বাচ্চা, কাকের মৃতদেহ পেয়েছেন। বাড়ির বাসিন্দারা ওভাবেই পানি খেয়েছেন দিনের পর দিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা